শুক্রবার বিকেলে যমুনা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরোপিত সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন দাবি-দাবি নিয়ে সমাবেশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও পথচ্যুতি করে, ফলে জনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দেয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় কোনো সভা‑সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত বা বিক্ষোভের অনুমতি নেই। তবুও, বিভিন্ন দাবি‑দাবি নিয়ে গঠিত গোষ্ঠীগুলো পুলিশ বাধা অতিক্রম করে যমুনা‑দিকের পথে অগ্রসর হয়। এই সময়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের ব্যবহার সীমিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে করা হয়, যাতে প্রাণঘাতী আঘাতের ঝুঁকি কম থাকে। তবে, এই পদক্ষেপের ফলে কিছু পুলিশ সদস্য ও কিছু সমাবেশকারী সামান্য আঘাত পায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
বিক্ষোভের সময়ে আহত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা সরকারি সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে আহতদের মধ্যে কিছু গুরুতর অবস্থায় নয়। একই সঙ্গে, সমাবেশকারীদের মধ্যে কয়েকজন হালকা আঘাত পেয়ে তৎকালীন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ‑পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ আইনি ভিত্তিতে এবং যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের সময় কোনো ধরনের গুলি ব্যবহার না করা হয়েছে, ফলে গুলিবর্ষণ বা প্রাণঘাতী ঘটনার কোনো সম্ভাবনা রয়ে যায়নি। পুলিশ গুলি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি এড়াতে নেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে যে, ঘটনাটির সম্পর্কে কোনো ভুল তথ্য বা অপপ্রচার ছড়িয়ে না দেওয়া হোক। পুলিশ জানিয়েছে যে, সকল তথ্যই সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত এবং মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জনমতকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপের জন্য তদন্ত চালু রয়েছে।
অধিকন্তু, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালতে কোনো আপিল বা আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণাদি ভিত্তিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।
সারসংক্ষেপে, শুক্রবারের বিক্ষোভে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গুলি না করে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মাধ্যমে সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করে, ফলে কয়েকজন পুলিশ ও বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হয়। পুলিশ সকলকে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সচেতন থাকতে এবং অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।



