ফিনল্যান্ডের উত্তর কেরেলিয়া, রাশিয়ার সীমানার কাছে, শীতকালে তীব্র শীতলতা ও দীর্ঘ শীতের মুখোমুখি হয়। এই অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রায়ই জমে থাকা হ্রদে বসে মাছ ধরার কাজ করেন, যেখানে তারা একটানা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তবে হঠাৎ তীব্র বাতাস ও গভীর তুষার তাদের নতুন জায়গা বা পার্শ্ববর্তী হ্রদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
বরফের উপর বসে মাছ ধরার সময়, মাছধরাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল কতক্ষণ পর্যন্ত একই স্থানে থাকা উচিত, আর কখন ঝুঁকি নিয়ে অন্য জায়গায় যাওয়া উচিত। এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষ কীভাবে খাবার সংগ্রহ করে তা থেকে অনুপ্রাণিত, যেমন ফল সংগ্রহ, শিকড় তোলা বা বরফের নিচে মাছ ধরা।
পূর্বের গবেষণাগুলো মূলত একক ব্যক্তি কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় তা বিশ্লেষণ করেছে। তবে এই গবেষণাগুলো প্রায়শই একা কাজ করা ব্যক্তিদের উপর ভিত্তি করে, এবং অনেক সময় ভিডিও গেমের খেলোয়াড়দের ডেটা ব্যবহার করে, যেখানে পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ল্যাবের মতো। ফলে বাস্তব জীবনের সমষ্টিগত মাছধরা প্রক্রিয়ার প্রকৃত চিত্র ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।
বাস্তবিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ মাছধরা দলগতভাবে সম্পন্ন হয়। একা ঝুঁকি নেওয়ার বদলে, অনেকেই অন্যদের সঙ্গে মিলিয়ে একই জায়গা বেছে নেয় বা একসাথে নতুন স্থানে যায়। বিজ্ঞানীরা জানুয়ারি ২৯ তারিখে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই প্রবণতা তুলে ধরেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, একা কাজ করা ও দলের জ্ঞান উভয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক অ্যালেকজান্ডার শাকোভস্কি, বার্লিনের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের মনোবিজ্ঞানী, উল্লেখ করেন যে মাছধরাদের জন্য নিজের অন্তর্দৃষ্টি ও অন্যদের আচরণ দুটোই সমানভাবে প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে, যখন মাছধরাদের ধরা কমে যায়, তখন তারা নিজের স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্তের চেয়ে অন্যদের অনুসরণকে বেশি পছন্দ করে। অর্থাৎ, দুর্বল ফলাফল পাওয়া ব্যক্তিরা দলগত সিদ্ধান্তে বেশি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে।
এই ফলাফলটি মানব মস্তিষ্কের জটিলতা ও অভিযোজন ক্ষমতার বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। উষ্ণমণ্ডলীয় বন থেকে আর্কটিকের কঠোর পরিবেশ পর্যন্ত, মানুষ কীভাবে সম্পদ সংগ্রহের কৌশল গড়ে তোলে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
ফ্রেডি হিলম্যান, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত ইকোলজিস্ট, উল্লেখ করেন যে এই ধরনের তথ্য বুদ্ধিমত্তার উত্পত্তি সম্পর্কে অতিরিক্ত ধারণা যোগ করে। তিনি বলেন, পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলগত জ্ঞান ও ব্যক্তিগত অন্তর্দৃষ্টির সমন্বয়ই মানব বুদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
উত্তর কেরেলিয়ার কঠোর শীতলতা ও বরফের নিচে মাছের আচরণকে বিবেচনা করে, এই গবেষণা স্থানীয় মাছধরাদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শও প্রদান করে। একা ঝুঁকি নেওয়ার বদলে, সমবায়ে সিদ্ধান্ত নিলে সময় ও শক্তি সাশ্রয় হয়, এবং ফলাফলও উন্নত হতে পারে।
আপনার যদি বরফে মাছধরা নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে, তবে আপনার পছন্দের কৌশল ও দলগত সিদ্ধান্তের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন।



