21 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধএফবিআইয়ের গ্রেফতারকৃত পালিয়ে থাকা সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে

এফবিআইয়ের গ্রেফতারকৃত পালিয়ে থাকা সন্দেহভাজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হতে পারে

যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে শোনানো এক শুনানিতে জানা গেছে, ৪৭ বছর বয়সী ড্যানিয়েল আন্দ্রিয়াস সান ডিয়েগোকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা যেতে পারে। সান ডিয়েগোকে ২০০৩ সালে সান ফ্রান্সিসকোর বোমা হামলায় যুক্ত করা হয়েছিল এবং এফবিআইয়ের “সবচেয়ে বেশি চাওয়া” তালিকায় ছিলেন। তিনি ২১ বছর ধরে পলায়ন করে ছিলেন এবং নভেম্বর ২০২৪-এ ওয়েলসের কনওয়ি কাউন্টির মায়েনান নিকটবর্তী এক দূরবর্তী এলাকায় গ্রেফতার হয়েছেন।

গ্রেফতারটি স্থানীয় পুলিশ ও ব্রিটিশ হোম অফিসের যৌথ অপারেশনের ফলাফল। সান ডিয়েগোকে একটি পরিত্যক্ত গাড়িতে পাওয়া বোমা তৈরির সরঞ্জাম থেকে তার আঙুলের ছাপ শনাক্ত হওয়ার পরই আটক করা হয়। গাড়িটি তৎকালীন সময়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং তদন্তে দেখা যায়, এতে ব্যবহৃত উপকরণে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্পষ্টভাবে উপস্থিত ছিল।

ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে বিচারক গুজে সান ডিয়েগোর আইনজীবীদের উত্থাপিত আপিলের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতার প্রক্রিয়া ও প্রমাণের যথার্থতা যথেষ্ট এবং কোনো আইনি ত্রুটি পাওয়া যায়নি। আপিলের সম্ভাব্যতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত কোর্টের পরবর্তী সেশনে নেওয়া হবে।

সান ডিয়েগো ১৯৭৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলিতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন স্থানে তিনটি নেল বোমা বসানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এই বোমাগুলি সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

বোমা হামলার পরপরই সান ডিয়েগোকে ট্র্যাফিক পুলিশ থামিয়ে নেয়, কারণ তিনি বিস্ফোরণের স্থানটির নিকটবর্তী এলাকায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে, তিনি তখনো কোনো অপরাধমূলক প্রমাণ না পেয়ে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান। তার অদৃশ্য হওয়ার পর থেকে এফবিআই তাকে আন্তর্জাতিকভাবে অনুসন্ধান তালিকায় যুক্ত করে রাখে।

পূর্ববর্তী শুনানিতে কোর্টে জানানো হয় যে, সান ডিয়েগোর গাড়িতে পাওয়া বোমা তৈরির যন্ত্রপাতিতে তার আঙুলের ছাপের পাশাপাশি অন্যান্য ফোরেনসিক প্রমাণও পাওয়া গিয়েছিল, যা তাকে সরাসরি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে। এই প্রমাণগুলোই শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাজ্যে গ্রেফতার করতে সহায়তা করে।

বোমা হামলার দায়িত্ব গ্রহণের দাবি একটি চরমপন্থী প্রাণী অধিকার গোষ্ঠী থেকে এসেছে। তারা চিরন বায়োটেকনোলজি কর্পোরেশন (এমেরিভিল) এবং শাকলি নিউট্রিশনাল প্রোডাক্টস কর্পোরেশন (প্লেস্যান্টন) উভয়ের বিরুদ্ধে দায় স্বীকার করে। তবে, এই গোষ্ঠীর দাবি এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

বোমা বিস্ফোরণের ফলে কোনো মানবিক ক্ষতি বা আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। যদিও বোমাগুলি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসাত্মক ছিল, তবে সেগুলি কোনো প্রাণী বা মানুষের ক্ষতি না করে স্ফোটিত হয়। এই বিষয়টি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সান ডিয়েগোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। যদি কোর্টের পরবর্তী রায়ে প্রত্যর্পণ অনুমোদিত হয়, তবে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠিয়ে সান ফ্রান্সিসকোর বোমা হামলার মামলায় বিচার করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের আইনি ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসরণ করা হবে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, সান ডিয়েগোর আপিলের ফলাফল এবং প্রত্যর্পণ অনুমোদনের পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে গতি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে, তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ অনুসন্ধান ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments