বার্নলি টার্ফ মুরে ওয়েস্ট হ্যামকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, যদিও ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে ১৫টি ম্যাচ জয় না পেয়ে ১১ পয়েন্টে নিরাপত্তার নিচে রয়েছে। সিজন-টিকিটধারী মার্ক বেন্টলি জানান, তিনি এখনো ম্যাচের দিন উপভোগ করেন এবং ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেন না। দলটি তৃতীয় ধারাবাহিক প্রিমিয়ার লিগ প্রচারে রিলিগেশন হুমকির মুখে, যা ক্লাবের ইতিহাসে অস্বাভাবিক একটি পর্যায়।
বর্তমান মৌসুমে বার্নলি মাত্র তিনটি জয় অর্জন করতে পেরেছে, সবই দুইটি প্রমোশনাল দল এবং সর্বনিম্ন অবস্থানের উলভসের বিরুদ্ধে। মোট ২৪টি ম্যাচে এই তিনটি জয় ছাড়া অন্য কোনো বিজয় না পাওয়ায় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই সংকীর্ণ। দলটি এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে কোনো জয় না পেয়ে ১৫টি ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যা তাদের রিলিগেশন তালিকায় নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
শুক্রবারের ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামকে স্বাগত জানাতে বার্নলির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। যদি এই ম্যাচে পরাজয় হয়, তবে রিলিগেশন থেকে বাঁচার কোনো সূক্ষ্ম আশা শেষ হয়ে যাবে। বর্তমানে দলটি নিরাপত্তা অঞ্চলের থেকে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে, এবং আরেকটি হার তাদের পয়েন্টের ফাঁক বাড়িয়ে দেবে।
মার্ক বেন্টলি, যিনি বহু বছর ধরে বার্নলির সিজন টিকিটধারী, বলেন তিনি এখনো স্টেডিয়ামে যাওয়া উপভোগ করেন, যদিও ফলাফল তার মনের ওপর প্রভাব ফেলে না। তিনি যোগ করেন, “আমি আর ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দিই না, শুধু মাঠের পরিবেশ উপভোগ করি।” এই ধরনের মনোভাব ভক্তদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে, যদিও দলটি কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
গ্রীষ্মে ক্লাবটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে, বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৯৬ ক্যাপের কাইল ওয়াকারকে আনা হয়। এই বড় সাইনিংয়ের পরেও দলটির আত্মবিশ্বাস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে গিয়েছে, এবং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। প্রথম হোম গেমে সান্ডারল্যান্ডকে পরাজিত করে যে উদ্দীপনা পাওয়া গিয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বজায় রাখতে পারছে না।
প্রশিক্ষক স্কট পার্কার বার্নলির পারফরম্যান্সে “সুক্ষ্ম পার্থক্য” উল্লেখ করেন, যেখানে দলটি সাতবার এক গোলের পার্থক্যে হারেছে এবং ছয়বার ড্র করেছে। সোমবারের সান্ডারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হালকা পরাজয়ের পর পার্কার খেলোয়াড়দের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাদের পারফরম্যান্সে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ম্যাচে দলটি লক্ষ্যভিত্তিক শটও তৈরি করতে পারেনি, যা চারটি ধারাবাহিক ম্যাচে লক্ষ্য শট না থাকার একটি রেকর্ড।
যদি রিলিগেশন ঘটে, বার্নলির পরবর্তী ৪৬টি ম্যাচে আবার নিম্ন লিগে সংগ্রাম করতে হবে, যেখানে তারা আবার ছোট মাছের মতো অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করবে। ক্লাবের ইতিহাসে পূর্বে সিয়ান ডাইচের অধীনে পাঁচটি ধারাবাহিক প্রিমিয়ার লিগ সিজন এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সময় একটি শক্তিশালী পরিচয় গড়ে উঠেছিল। ডাইচের সময়ে দলটি ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল, চেলসি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
ডাইচের নাম এখনও টার্ফ মুরের কাছাকাছি একটি পাবের নামের ওপর দেখা যায়, এবং তার নাম স্টেডিয়াম অফ লাইটে গাওয়া হয়। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দলগত পরিচয় এবং ভক্তদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আজকের বার্নলিতে কিছুটা হারিয়ে গেছে বলে মনে করা হয়। এখন ক্লাবটি পুনরায় সাফল্যের পথে ফিরে যাওয়ার জন্য কঠিন সময়ের মুখোমুখি, তবে ভক্তদের আশাবাদ এবং ক্লাবের ঐতিহাসিক ভিত্তি কিছুটা সান্ত্বনা প্রদান করে।



