শুক্রবার ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি দলের আমির শফিকুর রহমান ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার অঙ্গীকার পুনরায় প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে বললেন, আল্লাহর হুকুম অনুসারে দেশের প্রতিটি কোণে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে দেশের ৫৪ বছর ধারাবাহিকভাবে অন্যায়ে ভরপুর হয়েছে, যার ফলে দরিদ্র মানুষ, নির্দোষ নাগরিক, নারী ও শিশুরা যথাযথ বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিচার পদ্ধতি কেবল আর্থিক ক্ষমতা ও শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল, যা তিনি বদলাতে চান।
বক্তা স্পষ্ট করে জানান, ন্যায়বিচারে কোনো আপোষ বা সহনশীলতা থাকবে না; অপরাধের শাস্তি সকলের জন্য সমান হবে, এমনকি শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্যও। তিনি দাবি করেন, যদি কোনো অপরাধের জন্য সাধারণ মানুষের শাস্তি হয়, তবে একই অপরাধের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একই শাস্তি দিতে হবে। এ ধরনের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে জনগণ তাদের অধিকার সঠিকভাবে পাবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার রূঢ় অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মধ্যে দুর্নীতির শিকড় কেটে ফেলতে হবে এবং তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি এই অর্থকে জনগণের সম্পদ হিসেবে গণ্য করে, তা পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অবহেলিত ও বঞ্চিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে কোনো বৈষম্য না থাকে। শফিকুর রহমানের মতে, অতীতে উপেক্ষিত এলাকাগুলোকে প্রথমে চিহ্নিত করে সেখানে অবকাঠামো ও সামাজিক সেবা প্রদান করা হবে। তিনি এ বিষয়ে জোর দেন যে, উন্নয়ন পরিকল্পনা সকলের জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে।
যুবকদের জন্য তিনি কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। শফিকুর রহমানের মতে, যুবকদেরকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বাস্তব কাজের সুযোগও প্রদান করা হবে, যাতে তারা স্বনির্ভর হতে পারে। এছাড়া তিনি ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন, যদি কেউ ভোট চুরি করার চেষ্টা করে তবে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যদিও বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নারীদের নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করা তার দলের অগ্রাধিকার, এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিশেষ নীতি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই র্যালিতে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রতি প্রতিক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতি বিরোধী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমানের এই বক্তৃতা জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ন্যায়, সমতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রতিশ্রুতি তার দলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগাতে পারে, তবে একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সমালোচনা ও প্রশ্নও উত্থাপিত হতে পারে। এই রকম স্পষ্ট নীতি ঘোষণার ফলে পার্টির ভোটার ভিত্তি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



