নিলফামারী সরকারি কলেজের হলরুমে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি ঘটিত অস্ত্র লুটের বেশিরভাগই পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি কয়েকটি অস্ত্রের সন্ধান এখনও চলমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি সামগ্রিক নির্বাচনী নিরাপত্তাকে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
গত সপ্তাহে নিলফামারীর কিছু গুদামে সংরক্ষিত অস্ত্রের তালিকায় অননুমোদিত লুটের খবর প্রকাশ পায়। লুটের পরিমাণ ও ধরণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করা হলেও, নিরাপত্তা দপ্তর জানায় যে লুটের বেশিরভাগ অস্ত্রই দ্রুতই উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট কয়েকটি অস্ত্রের সন্ধান এখনো চলমান এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে সতর্কভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
মাছউদ নির্বাচন কমিশনারের মতে, লুটের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ফাঁক দেখা দেয়নি। তিনি বলেন, “পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম নতুন। তাই এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কাউকে এক বিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রশ্ন আছে, এমন কাজ কখনও করা হবে না। সে ব্যাপারে আমরা সর্তক রয়েছি।” এই মন্তব্যে তিনি পোস্টাল ব্যালটের নতুনত্বকে স্বীকার করে সম্ভাব্য ত্রুটি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকের সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, লুটের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগের মোকাবিলায় নিরাপত্তা কর্মী ও নির্বাচনী কর্মীদের তীব্র পর্যবেক্ষণ চালু করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, নির্বাচনের সময় কোনো হুমকি সৃষ্টি না করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকটি নিলফামারী জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট শেখ জাহিদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপিরচালক সাইদুল ইসলাম, রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং নিলফামারী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুল কবির। সকল উপস্থিত কর্মকর্তাই লুটের পরিণতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে লুট হওয়া অস্ত্রের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া, পোস্টাল ব্যালটের প্রযুক্তিগত দিক এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কর্মকর্তারা জানান, লুটের ফলে হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রের তালিকা আপডেট করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে। এছাড়া, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহারে সম্ভাব্য ত্রুটি দূর করার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
নির্বাচন কমিশনারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরণের সতর্কতা গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হবে না, এ জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।” এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শেষে সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে, লুটের পরিণতি দ্রুত সমাধান করা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য অতিরিক্ত গার্ড, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের সমন্বয় বাড়ানো হবে।
এই বৈঠকটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন যে, লুটের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগ দূর করতে এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ প্রদান করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হবে।



