ইস্লামাবাদের রাজধানী শহর ইস্লামাবাদে শুক্রবারের নামাজের সময় শিবি মসজিদে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে কমপক্ষে বিশজনের বেশি মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলা টারলাই এলাকায় অবস্থিত মসজিদে ঘটেছে এবং তৎকালীন সময়ে মসজিদে প্রচুর সংখ্যক উপাসক উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুর সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ২০ জানানো হলেও, পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী শিকারের সংখ্যা বাড়তে পারে। আহতদের সংখ্যা ৮০ থেকে ১০০ এর বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে, যদিও সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর শহরের তিনটি প্রধান হাসপাতালেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এই হাসপাতালগুলোতে তৎক্ষণাৎ ট্রায়াজ টিম গঠন করে আহতদের চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত মেডিকেল স্টাফ ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
টারলাই এলাকার শিবি মসজিদটি শহরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং স্থানীয় শিবি সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শুক্রবারের নামাজের সময় মসজিদে প্রচুর সংখ্যক উপাসক একত্রিত হওয়ায় এই সময়ে আক্রমণ ঘটার ফলে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে।
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি, তবে প্রাথমিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এটি আত্মঘাতী বোমাবর্ষণ হতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, বিস্ফোরণের পর现场ে আত্মহত্যা করার জন্য ব্যবহৃত বোমা পাওয়া গেছে, তবে তদন্ত চলাকালে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফ এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে গভীর দুঃখের কথা বলেন। তিনি মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে দেশের সকল নাগরিককে শান্তি ও সংহতির আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সহিংসতা দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক ঐক্যের জন্য হুমকি স্বরূপ বলে উল্লেখ করেন।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ, সিআইডি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ফরেনসিক টিম বোমার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে এবং সম্ভাব্য দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করার জন্য তথ্য সংগ্রহে লিপ্ত।
অধিকন্তু, ইস্লামাবাদ পুলিশ বিভাগ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ দলে কাজ শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি শহরের বিভিন্ন নজরদারি ক্যামেরা থেকে রেকর্ড সংগ্রহ করছে এবং সাক্ষী বিবৃতি নেয়া হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানের দণ্ডবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা শান্তি বজায় রাখে এবং কোনো ধরনের অশান্তি বা গুজব ছড়িয়ে না দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলা এবং জরুরি সেবা সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকার জরুরি আর্থিক সহায়তা ও মানসিক পরামর্শের ব্যবস্থা চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে।
বিস্ফোরণ ঘটার পর থেকে ইস্লামাবাদে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।



