ইসলামাবাদ, পাকিস্তান – জুমা নামাজের সময় শিয়া সম্প্রদায়ের খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটায়, যার ফলে অন্তত পনেরো জনের প্রাণ ত্যাগ এবং আশি জনেরও বেশি আহত হয়। ঘটনাটি শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, তারালাই কালান এলাকায় ঘটেছে।
বিস্ফোরণের তীব্র ধ্বনি ও ধোঁয়া মসজিদে উপস্থিত উপাসকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। জরুরি সেবা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, আহতদের কাছাকাছি হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির জানান, আহতদের মধ্যে কমপক্ষে পনেরো জনকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
মসজিদে উপস্থিত উপাসক ও পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় শোক ও আতঙ্কে ভুগছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে। ইসলামাবাদ পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, তদন্তের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এলাকায় সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে শান্ত থাকতে এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে গত বছরের নভেম্বরে ইসলামাবাদে ঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলার স্মৃতি আবার তাজা হয়ে উঠেছে। সেই সময় জেলা বিচার বিভাগীয় কমপ্লেক্সের সামনে এক আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে বারোজনের মৃত্যু হয়েছিল। উভয় ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি উভয় ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব নির্ধারণে কঠোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনি দিক থেকে, বিস্ফোরণ ঘটনার পর পুলিশ তদন্তের অধীনে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার চেষ্টা করবে। সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বিপর্যয়গ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকার জরুরি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও শোকাহত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, মসজিদে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি মেরামতের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এই দুঃখজনক ঘটনার পর শান্তি ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সকলকে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। মসজিদে পুনরায় নামাজের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, সাইবার পর্যবেক্ষণ ও তথ্য শেয়ারিং বাড়িয়ে সম্ভাব্য হুমকি পূর্বেই সনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিস্ফোরণ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইসলামাবাদের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, শিকারদের পরিবারকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে, এই মুহূর্তে কোনো আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা সরাসরি জড়িত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবিলম্বে, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ আহতদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ইউনিট গঠন করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করছে। আহতদের শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারের জন্য মনোচিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। সরকার এই ধরনের আঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের কথা বিবেচনা করছে।
এই ঘটনার পর, ইসলামাবাদে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপাসকরা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত রিপোর্ট করতে urged করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা রোধে সমন্বিত নিরাপত্তা নীতি ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।



