বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ (বগুড়া‑২) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, ৫ আগস্টের পরের মামলার আসামি হওয়ায় এবং নির্বাচনী পরিবেশের অনুপযুক্ততা উল্লেখ করে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে, নিজে এবং তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও হুমকির মুখে নির্বাচন চালানো সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন।
চিঠিটি প্রকাশের পর দ্রুত শেয়ার ও রিটুইটের মাধ্যমে বিস্তৃত হয়, ফলে জিন্নাহর সিদ্ধান্ত ব্যাপক দৃষ্টিগোচরে আসে। প্রকাশিত চিঠিতে তিনি শিবগঞ্জের মানুষের প্রতি তার অটুট ভালোবাসা ও এলাকার উন্নয়নে নিজস্ব অবদানের কথা তুলে ধরেন, এবং অতীতের কাজগুলোকে সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শ্রীর জিন্নাহ জানান, তার বিরুদ্ধে মোট বারোটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, পাশাপাশি তার সমর্থকদের ওপরও আইনি চাপ আর হুমকি আরোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই মামলাগুলো এবং সহকর্মীদের ওপর চালু করা ভয়-ভীতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে, ফলে তিনি ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রার্থীর মতে, শিবগঞ্জে বর্তমানে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, তার ও তার দলের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের চাপে আনা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি তাকে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে প্ররোচিত করেছে।
শ্রীর জিন্নাহ শিবগঞ্জের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন। তিনি অতীতে সম্পন্ন করা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা তুলে ধরেন, তবে উল্লেখ করেন যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
এই অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে আইনি হুমকি ও ভয়-ভীতি, তাকে আবারও তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি উন্নয়নের জন্য না হয়ে ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে হয়, তবে তা দেশের স্বার্থের বিরোধী।
জিন্নাহের মতে, রাজনীতি আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠা উচিত, প্রতিহিংসা বা হিংসার নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচন করা মানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা নয়, বরং ভয় ও জবরদস্তিকে বৈধতা প্রদান করা। তাই তিনি শিবগঞ্জের মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য এই নির্বাচন থেকে নিজেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রার্থীর এই সিদ্ধান্তের ফলে শিবগঞ্জের আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তার অবস্থান শূন্য হয়ে যাবে, যা অন্যান্য দলগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্বাচনী কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়, তবে জিন্নাহর প্রত্যাহার নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিবগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জিন্নাহর প্রত্যাহার ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে পুনর্গঠন করতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য প্রার্থীরা এই শূন্যস্থান পূরণে সক্রিয় হবে এবং শিবগঞ্জের উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন প্রতিশ্রুতি দেবে।
অবশেষে, জিন্নাহের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক নৈতিকতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসবেন বা অন্য কোনো ভূমিকা গ্রহণ করবেন, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



