বিএনপি তারেক রহমানের ৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত র্যালি আজ নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাহুল কবির রিজভি আহমেদ, দলের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, এই সিদ্ধান্তের কারণ ও পরবর্তী পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন।
প্রেস কনফারেন্সে রিজভি আহমেদ জানান, পূর্বে ঘোষিত র্যালি নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে না এবং তারেক রহমানের উপস্থিতি অন্য প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধ থাকবে। পরিবর্তে, ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী র্যালি পরিচালিত হবে।
বিএনপি এই র্যালিগুলোকে নির্বাচনের পূর্বে পার্টির প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। রিজভি আহমেদ উল্লেখ করেন, র্যালি স্থগিতের সিদ্ধান্ত কোনো নিরাপত্তা বা আইনগত বাধার কারণে নয়, বরং পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনার ফল। তিনি বলেন, নতুন র্যালি শিডিউল ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং পার্টির নীতি তুলে ধরার সুযোগ দেবে।
রালির স্থান নির্ধারণে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে শহরের বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর কাছে পার্টির বার্তা পৌঁছাতে পারে। রিজভি আহমেদ উল্লেখ করেন, র্যালি চলাকালীন তারেক রহমানের উপস্থিতি পার্টির নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও ঐক্যকে জোরদার করবে।
বিএনপি এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ত্বরান্বিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। পার্টি নেতারা আগামী সপ্তাহে আরও র্যালি ও সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। রিজভি আহমেদ বলেন, এই র্যালিগুলো ভোটারদের উদ্বেগ শোনার এবং পার্টির নীতি ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হবে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিরোধী দলগুলো এই পরিবর্তনকে পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
বিএনপি নির্বাচনের আগে এই র্যালিগুলোকে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার এবং পার্টির সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। রিজভি আহমেদ শেষ করে বলেন, র্যালি পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকর হবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে পার্টি তার লক্ষ্য অর্জন করবে।
এই ঘোষণার পর, পার্টির কর্মীরা র্যালি স্থান ও সময়সূচি চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুততর করে চলেছেন। র্যালি সংক্রান্ত সকল তথ্য ভোটারদের জানাতে পার্টি একটি বিশেষ ওয়েব পেজ চালু করার পরিকল্পনা করেছে।
বিএনপি এই র্যালি শিডিউলকে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে পার্টির দৃঢ়তা ও সংগঠনের ক্ষমতা প্রকাশ করে।



