ইংলিশ ফুটবল লিগ (EFL) লেস্টার সিটির ওপর আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ছয় পয়েন্ট কেটে শাস্তি আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্ত তৎক্ষণাৎ কার্যকর হওয়ায় ক্লাবের চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলে ১৭ নম্বর স্থান থেকে তিন ধাপ নিচে নামিয়ে বর্তমানে ২০ নম্বরে স্থাপন করেছে।
লেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগে অবনতি হওয়ার পর EFL এর অধীনে আর্থিক নিয়মের আওতায় পড়ে। ‘প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস’ (PSR) অনুসারে, ক্লাবকে নির্ধারিত ক্ষতির সীমা অতিক্রম করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়। ক্লাবটি ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিনটি আর্থিক বছরের মধ্যে অনুমোদিত ক্ষতির চেয়ে বেশি ব্যয় করেছে।
EFL এর হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত লেস্টার সিটির মোট ক্ষতি অনুমোদিত সীমার তুলনায় ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বেশি হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো সর্বোচ্চ তিন বছরে £১০৫ মিলিয়ন পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে, তবে শীর্ষ লিগের বাইরে থাকা প্রতিটি মৌসুমে এই সীমা £২২ মিলিয়ন করে কমে যায়।
নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ বারো পয়েন্ট কাটা যেতে পারত, তবে ক্লাবের আর্থিক অবস্থার উন্নতি বিবেচনা করে শাস্তি ছয় পয়েন্টে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এই হ্রাসকৃত শাস্তি ক্লাবের বর্তমান ক্রীড়া লক্ষ্য অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
লেস্টার সিটি শাসনের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে শাস্তি সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করেছে এবং সিদ্ধান্তকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। ক্লাবের মতে, কমিশন তাদের উপস্থাপিত লঘুকরণমূলক যুক্তিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি, যা চলতি মৌসুমে দলের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরো রায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্লাবের আইনজীবী দল এখন শাসনের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
PSR অনুযায়ী, শীর্ষ লিগের বাইরে থাকা ক্লাবগুলোকে আর্থিক ক্ষতির সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে। লেস্টার সিটির ক্ষেত্রে, সীমা অতিক্রমের পরিমাণ এবং ক্লাবের আর্থিক উন্নতি শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
শাসনের ফলে দলটি চ্যাম্পিয়নশিপে টানা চার ম্যাচে কোনো জয় না পেয়ে কঠিন অবস্থায় রয়েছে। এই চার ম্যাচের মধ্যে তিনটি হার এবং একটি ড্র হয়েছে, যা টেবিলে নিচের দিকে নামার প্রধান কারণ।
দলীয় মূল খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী সাম্প্রতিক চোটের কারণে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকবে। তার অনুপস্থিতি আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সীমিত করেছে এবং দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।
কোচ মার্তি সিফুয়েন্তেস জানুয়ারিতে বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে লেস্টার সিটি স্থায়ী কোচ নিয়োগে অক্ষম রয়ে গেছে। বর্তমানে অস্থায়ী কোচ অ্যান্ডি কিং দলের নেতৃত্বে আছেন এবং শীঘ্রই ম্যাচে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অ্যান্ডি কিং শনিবার বার্মিংহাম সিটির মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি দলকে শাসনের পর প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের অবস্থান রক্ষা করার চেষ্টা করবে।



