সিভিল এভিয়েশন উপদেষ্টা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড চেয়ারম্যান পদ দুটোই একসাথে গ্রহণ করা স্ক বশির উদ্দিনের পদক্ষেপ interim সরকারে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সময় বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার লাইসেন্সের অনুসরণে যুক্ত ছিলেন। এই একাধিক ভূমিকা একসঙ্গে পালন করা তাকে নীতি-নির্ধারক, নিয়ন্ত্রক এবং আবেদনকারী তিনটি অবস্থানে রাখে, যা স্বার্থের অমিলের ইঙ্গিত দেয়।
স্ক বশির উদ্দিনকে নভেম্বর ২০২৪-এ সরকারী পরামর্শক পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সময়ে তিনি তার নিজস্ব কংগ্লোমারেট, আকিজবশির গ্রুপের মাধ্যমে এভিয়েশন সেক্টরে নতুন উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন। মার্চ ২০২৫-এ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (CAAB) একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন এভিয়েশন লাইসেন্সের আবেদনকারীর যাচাই প্রক্রিয়া চালায়। স্ক বশির উদ্দিনই সেই আবেদনকারী, যিনি একই সময়ে interim সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আবেদনকারী হিসেবে তিনি “আকিজ বশির এভিয়েশন লিমিটেড” নামের একটি B-2 ক্যাটেগরির কোম্পানি গঠন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই কোম্পানি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দেশীয় যাত্রী ও কার্গো সেবা প্রদান করতে চায়। একই মাসে, স্ক বশির উদ্দিনের কোম্পানি CAAB-কে একটি ইচ্ছাপত্র (Letter of Intent) জমা দেয়, যেখানে হেলিকপ্টার-ভিত্তিক অপারেশন চালু করার পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।
হেলিকপ্টার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক অনুমোদন পেতে স্ক বশির উদ্দিন ১১ মার্চ ২০২৫-এ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। লাইসেন্সে তার ছবি ও “Import, Aviation Service, Export” ব্যবসার ধরণ উল্লেখ করা হয়েছে। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে তিনি হেলিকপ্টার রপ্তানি-আমদানি এবং এভিয়েশন সেবা প্রদান করার অনুমতি পান।
লাইসেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, তার কোম্পানি CAAB-কে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) এবং এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (AOC) প্রাপ্তির জন্য আবেদন করে। এই দুইটি নথি হেলিকপ্টার অপারেশন চালু করার জন্য বাধ্যতামূলক, এবং CAAB-র অনুমোদন ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক উড়ান সম্ভব নয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় স্ক বশির উদ্দিনের বাণিজ্যিক উপদেষ্টা পদ ও তার ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট না হওয়ায় প্রশ্ন তোলা হয়।
CAAB-র ভিডিও কনফারেন্সের কয়েক সপ্তাহ পরই স্ক বশির উদ্দিনকে সিভিল এভিয়েশন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এই পদে তিনি সিভিল এভিয়েশন নীতি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকেন, একই সঙ্গে তিনি হেলিকপ্টার লাইসেন্সের আবেদনকারী হিসেবেও কাজ করছিলেন। এই দ্বৈত ভূমিকা স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
চার মাসের মধ্যে, interim সরকার স্ক বশির উদ্দিনকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করে। দেশের জাতীয় পতাকার অধীনে পরিচালিত এই এয়ারলাইনসের প্রধান শাসন সংস্থা হয়ে তিনি এখন এভিয়েশন সেক্টরের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ও বাণিজ্যিক অপারেটর উভয়ই। এই পদবী গ্রহণের ফলে তার ব্যক্তিগত এভিয়েশন উদ্যোগের সঙ্গে সরকারি দায়িত্বের সীমানা অস্পষ্ট হয়ে যায়।
বিবেচনা করা হলে দেখা যায়, স্ক বশির উদ্দিনের একাধিক পদ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে স্বার্থের অমিলের স্পষ্ট উদাহরণ তৈরি হয়েছে। সরকারী নীতি নির্ধারণে তিনি যেসব সিদ্ধান্ত নেন, সেগুলি তার নিজস্ব বাণিজ্যিক প্রকল্পের সুবিধা দিতে পারে, বিশেষ করে হেলিকপ্টার সেবা ও এয়ার অপারেটর লাইসেন্সের ক্ষেত্রে। এই পরিস্থিতি opposition দল ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে সমালোচনা ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
অধিকন্তু, আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিয়োগগুলোকে পরীক্ষা করার জন্য সংসদীয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতে CAAB বা বিচারিক সংস্থা যদি স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে, তবে স্ক বশির উদ্দিনের উভয় পদে থাকা অব্যাহত থাকা কঠিন হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে interim সরকারের স্বচ্ছতা ও নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ার পুনর্বিবেচনা করা জরুরি, যাতে এভিয়েশন সেক্টরে ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, স্ক বশির উদ্দিনের সিভিল এভিয়েশন উপদেষ্টা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চেয়ারম্যান এবং হেলিকপ্টার লাইসেন্সের আবেদনকারী হিসেবে একসঙ্গে কাজ করা interim সরকারের স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তোলার মূল কারণ। এই ঘটনাটি সরকারী পদে স্বার্থের অমিলের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে নিয়মাবলী শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।



