আজ নতুনপাল্টন পার্টি অফিসে জুএসিএসইউ (Jucsu) কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুর রশিদ জিতু বিএনপি ও ছাত্রদলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। একই অনুষ্ঠানে হল ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা ছাত্রদলে অন্তর্ভুক্ত হন। জিতু এই পদক্ষেপের পেছনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅধিকারের সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই উত্থানকে রক্ষাকারী দল হিসেবে বিএনপি বেছে নেওয়া উল্লেখ করেন।
বিএনপি সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল কবির রিজভি, ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। রিজভি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, নতুন সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিএনপি ও ছাত্রদল উভয়ই অগ্রগতি অর্জন করবে।”
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনও উপস্থিত থেকে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “গতকাল পর্যন্ত আমাদের প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত না হলেও, এখন আমরা পুনর্গঠন ও শক্তিবৃদ্ধির পথে আছি এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
আবদুর রশিদ জিতু, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র ছাত্র সমাবেশ (Swatantra Shikkharthi Sommilon) থেকে জুএসিএসইউ ভি.পি. পদে নির্বাচিত হন, তার যোগদানের কারণ স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমি এমন দলকে সমর্থন করতে চাই যা ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আদর্শকে রক্ষা করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি দেশের সমৃদ্ধি ও সুখের জন্য একমাত্র উপযুক্ত পথ।”
জিতু আরও যোগ করেন, “বিএনপি যুবকদের সঙ্গে কাজ করে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়, আমি তার অংশ হতে প্রস্তুত।” তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে হালনাগাদ হল ইউনিয়ন নেতাদের নামও প্রকাশিত হয়। নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইবনে-শিহাব, আল‑বেরুনি হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিফাত আহমেদ শাকিল, এএফএম কামাল উদ্দিন হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়হান কবির, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অমিত বানিক, নবাব ফয়েজুন্নেসা হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট বুবলি আহমেদ, খালেদা জিয়া হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারজানা রিঠি এবং সালাম বর্কাত হলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারুফ হাসান ছাত্রদলে যোগদান করেন।
এই যোগদানকে বিএনপি তরুণ শক্তি বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। রিজভি উল্লেখ করেন, “যুবকরা আমাদের ভবিষ্যৎ, তাদের সমর্থন দিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারব।” ছাত্রদলের নেতৃত্বও একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
অবশেষে, জিতু ও তার সহকর্মীরা বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের ঐতিহাসিক আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করতে চান। এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে।



