24 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে পরিচালকদের নাজমুলের মন্তব্যে তীব্র বিরোধ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে পরিচালকদের নাজমুলের মন্তব্যে তীব্র বিরোধ

এডোমো বাংলাদেশ টি২০ কাপের বৃহস্পতিবারের ম্যাচে মাঠের পরিবেশ শান্ত থাকলেও, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পরিচালনা পরিষদে উত্তেজনা বেড়েছে। আর্থিক কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম সাম্প্রতিক ইখোন টিভি সাক্ষাৎকারে উম্পায়ারদের ম্যাচ ফি বৃদ্ধির সমালোচনা করার পর বেশ কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছেন।

নাজমুলের পূর্বের মন্তব্যগুলো ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তিনি তামিম ইকবালসহ কিছু শীর্ষ ক্রিকেটারকে লক্ষ্য করে কথা বলেছিলেন, যা খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ ক্রিকেট থেকে বিরত থাকার দিকে নিয়ে গিয়েছিল এবং একদিনের জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (BPL) বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল। এই নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি উম্পায়ারদের ফি দুই বছর আগে ৭০০ ডলার থেকে এখন ২,০০০ ডলারে বেড়েছে বলে উল্লেখ করে, এই বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি যোগ করেন, “যদি আমি কাউকে বৃদ্ধি দিই, তবে তা সীমার মধ্যে থাকতে হবে; আমার সিদ্ধান্ত আমার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।”

উম্পায়ার সরবরাহের খরচের পাশাপাশি, নাজমুল উম্পায়ারদের সরঞ্জাম ও ইউ-১৯ খেলোয়াড়দের জন্য ক্রিকেট গিয়ার ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, বোর্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা হলেও, অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছেছে কিনা বা কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত নন।

এই মন্তব্যের পরপরই উম্পায়ার কমিটির চেয়ারম্যান ইফতিখার রহমান মিথু নাজমুলের বক্তব্যের উপর তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “উম্পায়ারদের ম্যাচ ফি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া বোর্ডের দ্বারা ইউ-১৯ খেলোয়াড়দের সরবরাহ করা গিয়ার সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, পূর্বে সব উম্পায়ারকে ৫০,০০০ টাকা বা ৫০০ ডলার প্রদান করা হতো। বর্তমান কাঠামোতে তিনি ফি তিনটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করেছেন: এলিট প্যানেল উম্পায়ারকে ২,৫০০ ডলার, ICC আন্তর্জাতিক উম্পায়ারকে ১,০০০ ডলার এবং ICC অ-আন্তর্জাতিক উম্পায়ারকে ৭০০ ডলার।

নাজমুলের এই কাঠামো নিয়ে মন্তব্যে তিনি জোর দেন যে, “যদি আমি কোনো বৃদ্ধি দিই, তবে তা সীমাবদ্ধতা ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে দিতে হবে।” তবে পরিচালকদের প্রশ্নে তিনি এই ফি কাঠামোর ন্যায্যতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

পরিচালনা পরিষদের মধ্যে এই বিতর্কের ফলে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। যদিও মাঠে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি, তবু বোর্ডের নীতি ও আর্থিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে আর্থিক কমিটির ভূমিকা এবং উম্পায়ার ফি কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিচালকদের সঙ্গে নাজমুলের আলোচনার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনগুলোতে বোর্ডের কার্যক্রমে কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।

বিবেচ্য বিষয় হল, উম্পায়ার ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউ-১৯ খেলোয়াড়দের সরবরাহিত গিয়ারের ব্যয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে খেলোয়াড় ও স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় থাকে। এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিরোধ দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

পরবর্তী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ কাপের ম্যাচগুলোতে মাঠের পরিবেশ শান্ত থাকবে বলে আশা করা যায়, তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ফলাফল ক্রিকেটের সামগ্রিক নীতি ও আর্থিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments