ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকটে পরোক্ষ আলোচনার সূচনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা মোকাবিলায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য পারমাণবিক বিষয়ে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য চুক্তি গঠন।
ইরানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনার নেতৃত্বে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও জামাতা জারেড কুশনার অংশগ্রহণ করছেন। উভয় দলের উপস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, আলোচনার উদ্দেশ্য একটি ন্যায্য, পারস্পরিক সন্তোষজনক এবং সম্মানজনক পারমাণবিক চুক্তি অর্জন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো চুক্তি উভয় পক্ষের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আলোচনার সময় পারমাণবিক বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমানো এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়াও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন, এবং নাগরিকদের মানবিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আলোচনার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই দাবিগুলি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ইরান পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আলোচনার সীমা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিতে থাকবে। পারমাণবিক বিষয়ের বাইরে কোনো দাবি যুক্ত করা হলে তা আলোচনার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষুন্ন করবে বলে ইরান জোর দিয়েছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে মৌলিক এজেন্ডা পার্থক্য এখনও সমাধান হয়নি।
আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ইরান ‘চোখ খোলা রেখে’ এবং ‘গত এক বছরের অভিজ্ঞতা’ ভিত্তিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ইরান সৎ উদ্দেশ্যে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে এবং তার অধিকার রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং সমান অবস্থান বজায় রাখা টেকসই চুক্তির ভিত্তি হবে, এ কথায় তিনি জোর দিয়েছেন।
ইরানের এই অবস্থানকে সমর্থন করে বলা হয়েছে, সমান অবস্থান, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক স্বার্থ কোনো অলংকারপূর্ণ বক্তব্য নয়; এগুলো একটি স্থায়ী চুক্তির অপরিহার্য শর্ত। আরাঘচি আরও উল্লেখ করেছেন, ইরান কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হতে চায়, তবে তার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
এই পরোক্ষ আলোচনাকে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওমানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষায় তার ভূমিকা আলোচনার পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দেশ এখনও বিরোধপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও, সফল আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংলাপের কাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়াও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং মানবাধিকার বিষয়গুলোকে আলোচনার সূচিতে যুক্ত করা হবে। ইরান এই অতিরিক্ত বিষয়গুলোকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে অনিচ্ছুক। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে এজেন্ডা সংক্রান্ত মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
অধিকন্তু, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য পারমাণবিক চুক্তি গঠন, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো চুক্তি যদি পারস্পরিক সম্মান ও সমতা না বজায় রাখে, তবে তা টেকসই হবে না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করছে।
উল্লেখযোগ্য যে, আলোচনার এজেন্ডা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। উভয় পক্ষের দাবি ও শর্তাবলী পারস্পরিকভাবে সমন্বয় করা দরকার, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, এবং পরবর্তী সপ্তাহে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা ওমানের মাসকটে শুরু হয়েছে, যেখানে পারমাণবিক চুক্তি কেন্দ্রীয় বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত এজেন্ডা এবং ইরানের সীমিত দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য এখনও সমাধান হয়নি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।



