চীনের ফুটবল সংস্থা ১৩টি ক্লাবকে শাস্তি আরোপের পর, শীর্ষ ছয় দলের মধ্যে চেংদু রঙচেং শুধুমাত্র শূন্য পয়েন্টে নতুন মৌসুমের সূচনা করবে। অন্য সব শীর্ষ দল পূর্বে অর্জিত পয়েন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে। নতুন চীনা সুপার লিগ ২০২৬ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধন হবে, এবং শূন্য পয়েন্টের শাস্তি চেংদু রঙচেংকে লিগের শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও কঠিন অবস্থায় ফেলবে।
একই সময়ে চীনের U23 এবং প্রাদেশিক দলগুলো সাম্প্রতিক ম্যাচে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়ে ভক্তদের মনোবল বাড়িয়ে তুলেছে। এই তরুণ খেলোয়াড়দের সাফল্য দেশীয় ফুটবলের পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দেয় এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের জন্য আশার সঞ্চার করে। তাদের জয়গুলো মিডিয়ায় ব্যাপক কভারেজ পেয়েছে, যা শূন্য‑সহনশীলতা নীতির ইতিবাচক দিককে তুলে ধরে।
ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতে শি জিনপিংয়ের ইংরেজি ফুটবল ক্লাবের প্রতি মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। শি জিনপিং ক্রিস্টাল প্যালেসকে সরলভাবে “প্যালেস” বলে উল্লেখ করেন, ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালকে পছন্দের তালিকায় রাখেন এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। এই মন্তব্যগুলো যুক্তরাজ্যের মিডিয়ায় তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এই পছন্দের পেছনে ১৯৯০-এর দশকে সেলহার্স্ট পার্কে ফ্যান ঝি ইয়ের জনপ্রিয়তা, মেইন রোডে সান জিহাইয়ের কুল্ট স্ট্যাটাস এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ডং ফাংঝুয়ের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। উক্ত খেলোয়াড়রা চীনা ফুটবলের ইতিহাসে ইংরেজি ক্লাবের সঙ্গে সংযোগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, শি জিনপিং এভারটনকে উল্লেখ করেননি, যা কিছু বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কারণ এভারটনও চীনা খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ছিল। এই বাদ দেওয়া বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।
লি তিয়ে চীনের ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ, যিনি গুডিসন পার্কে চার সিজন খেলেছেন এবং ২০০২-০৩ মৌসুমে ২৯টি প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে অংশ নেন। তার খেলাধুলার পর কোচিংয়ে রূপান্তর করে ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি দলের কৌশলগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। তবে ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ডে বসে আছেন এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রমে আজীবন নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।
জনসাধারণের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া সাধারণ প্রশাসন এবং চীনা ফুটবল সমিতি একত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে নতুন শাস্তি ঘোষণা করে। এই পদক্ষেপগুলো “শূন্য সহনশীলতা” ক্যাম্পেইনের অংশ, যা ফুটবলে দুর্নীতি ও অনিয়ম নির্মূলের লক্ষ্যে চালু। শাস্তির মধ্যে ক্লাবের আর্থিক সীমাবদ্ধতা, কোচিং স্টাফের লাইসেন্স বাতিল এবং খেলোয়াড়ের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত অন্তর্ভুক্ত।
নতুন শাস্তিগুলো ২০২৬ সালের চীনা সুপার লিগের গঠন ও প্রতিযোগিতায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে, যা মার্চের শুরুর দিকে শুরু হবে। এই ক্যাম্পেইন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পূর্বের তুলনায় বেশি শিরোনাম পেয়েছে, এবং বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমে বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।
গত মৌসুমে গড় দর্শকসংখ্যা ২৫,০০০ের বেশি ছিল, যা এশিয়ার সর্বোচ্চ এবং দশ বছর আগে তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। লিগটি চার দলের মধ্যে তীব্র শিরোপা লড়াই দেখিয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ সময় তিন দলই শীর্ষে ছিল। চূড়ান্ত ম্যাচে শাংহাই পোর্ট শাংহাই শেনহুয়াকে দুই পয়েন্টে হারিয়ে তৃতীয় বছর ধারাবাহিক শিরোপা জিতেছে, যা ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত তৈরি করে।
চেংদু রঙচেং শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যদিও মৌসুমের শেষের দিকে তারা শীর্ষে ছিল এবং শূন্য পয়েন্টের শাস্তি সত্ত্বেও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কঠোর শাস্তি এবং নতুন নিয়মের মুখে ক্লাবগুলোকে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হবে, বিশেষত খেলোয়াড়ের রেজিস্ট্রেশন ও আর্থিক পরিকল্পনা ক্ষেত্রে। নতুন মৌসুমের সূচনা ফুটবলের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে হবে, এবং ভক্তরা প্রত্যাশা করছেন যে শূন্য‑সহনশীলতা নীতি লিগকে আরও পরিষ্কার ও ন্যায়সঙ্গত করবে।



