24 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনবম পে স্কেল দাবিতে শাহবাগে প্রতিবাদ, পুলিশ ব্যবহার করল জলকামান ও সাউন্ড...

নবম পে স্কেল দাবিতে শাহবাগে প্রতিবাদ, পুলিশ ব্যবহার করল জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড

শাহবাগে শুক্রবার সকাল দশটার দিকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানাতে সরকারি কর্মচারী ও ইউনিয়ন সদস্যরা একত্রিত হন। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের যমুনা দিকের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশ দলবদ্ধভাবে তাদের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

প্রতিবাদকারীরা বাধা সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনের দিকে অগ্রসর হন, তবে পুলিশ একাধিকবার জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের থামাতে চেষ্টা করে। প্রথম ধাপে কিছু সময়ের জন্য প্রতিবাদকারীরা বাসভবনের সামনে অবস্থান করে, পরে পুনরায় গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়।

বেলা একটার পর পুলিশ পুনরায় জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে প্রতিবাদকারীদের সরিয়ে নেয়। তৎপরতা বজায় রেখে অংশগ্রহণকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড়ে স্থানান্তরিত হন, যেখানে কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পুলিশ গাড়িতে নেওয়া দেখা যায়।

প্রতিবাদকারীরা ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘অফিস না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘অবিলম্বে পে স্কেল, দিতে হবে দিয়ে দাও’ ও ‘যমুনারে যমুনা, পে স্কেল ছাড়া যাব না’ ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করে। এই স্লোগানগুলো সরকারের পে স্কেল প্রকাশে দেরি করার বিরোধিতা প্রকাশ করে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী বোরহান উদ্দিন উল্লেখ করেন, নবম পে স্কেলের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও সরকার এখনও প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। তিনি বলেন, এই দেরি একটি রাজনৈতিক দলের আপত্তির ফলে হচ্ছে এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়; পে স্কেল অবিলম্বে কার্যকর করা দরকার।

শাহবাগ থানা ওয়াইস কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকাল দশটার পর সরকারি কর্মচারীরা শাহবাগ মোড়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যার ফলে আশেপাশের সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তিনি যোগ করেন, পথ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় এবং পরে পুলিশ ধাওয়া করে জলকামান ব্যবহার করা হয়।

পুলিশের ধাক্কা এবং গ্যাসের ব্যবহার সত্ত্বেও প্রতিবাদকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান বজায় রাখে। সেখানে ব্যারিকেড স্থাপন করে তারা রাস্তায় গতি বন্ধ করে দেয়, ফলে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয় এবং যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে যায়।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীরা দাবি করেন, পে স্কেল না হলে তাদের মৌলিক জীবিকা ও পারিবারিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা উল্লেখ করেন, সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল বিকেল থেকে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চে একটি অতিরিক্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এই বিষয়টিকেও সরকারের দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

প্রতিবাদে ব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে পুলিশের মতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এসব ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় ছিল।

এই ঘটনার পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে পে স্কেল সংক্রান্ত আলোচনার ত্বরান্বিত করার আহ্বান অব্যাহত রয়েছে।

শাহবাগে এই প্রতিবাদ এবং পূর্ববর্তী ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি সরকারী নীতি ও শ্রমিকদের দাবির মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক আলোচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

৮৫/১০০ ৩টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলোবিডি প্রতিদিনBanglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments