গতকাল সন্ধ্যা আটটার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে, হ্নিলা ইউনিয়নের আলিয়াখালিতে রোহিঙ্গা শিবিরের পাশের রাস্তায় বিএনপি নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলাকালীন গুলিবারুদে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু এবং দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থী অন্তর্ভুক্ত।
আহত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে: ৪৫ বছর বয়সী বাচা মিয়া (মোচনি গ্রাম, হ্নিলা ওয়ার্ড ৯), ১১ বছর বয়সী শাহাব উদ্দিন (আলিয়াখালি গ্রাম, ওয়ার্ড ৮), ১৮ মাসের নুসরাত জান্নাত রাফি (একই এলাকায়), ৩৭ বছর বয়সী আবদুর রহমান (রোহিঙ্গা শিবিরের ডি/৫ ব্লক, শিবির ২৫) এবং ১৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ জিসান (ডি/৪ ব্লক, একই শিবির)।
টেকনাফ পুলিশ স্টেশন অফিসার‑ইন‑চার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, গুলিবারুদে শিকারদের পেলেটের আঘাত হয়েছে, ফলে আঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমে গেছে। ঘটনাস্থলে একটি বিএনপি ক্যাম্পেইন গাড়ি পার্টির শস্যের গাঁথা চিহ্নসহ সঙ্গীত বাজিয়ে চলছিল। গাড়ি রোড ছেড়ে যাওয়ার তিন থেকে চার মিনিট পরেই গুলি চালানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, স্থানীয় অপরাধী জালাল নামের এক ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় কয়েকটি গুলি চালিয়েছেন। জালালকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ অপারেশন চালু করেছে।
গণমানুষের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গুলি হঠাৎ করে ছোড়া হয় এবং পাঁচজনই আহত হন। প্রাথমিকভাবে কোনো গুরুতর অবস্থার রিপোর্ট না থাকলেও, সব রোগীই একই রাতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, গুলিবারুদের সময় বিএনপি ক্যাম্পেইন দলের ২০-২৫ জন সমর্থক রাস্তায় একত্রিত হয়ে নাচ-গান ও স্লোগান চিৎকার করছিলেন, যা আসন্ন ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। সমর্থকদের সমাবেশের মাঝখানে গুলি চালানো হয়, ফলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এবং লোকজনের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।
আহত বাচা মিয়া, যিনি হাতে আঘাত পেয়েছিলেন, জানান তিনি আলিয়াখালিতে মোহাম্মদ মিয়ার বাড়ির পাশে বিবাহের সাজসজ্জা কাজ করছিলেন। গুলি শোনার পর প্রথমে তিনি তা আতশবাজি ভেবে নেন, পরে বুঝতে পারেন গুলি আঘাত হয়েছে এবং গুলির দিক চিহ্নিত করতে পারেননি।
আবদুর রহমানেরও গুলি আঘাতের ফলে শারীরিক ক্ষতি হয়েছে; তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা চলছে। অন্যান্য দুই শিশুরও আঘাত হালকা থেকে মাঝারি স্তরে, এবং তারা দ্রুতই সেরে উঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অধিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবারুদের সময় গাড়িতে ২০-২৫ জন সমর্থক উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সঙ্গীতের সঙ্গে স্লোগান গাইছিলেন। গুলি চালানোর পর দ্রুতই স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেছে।
সাইফুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, গুলিবারুদের পর তদন্তে জালাল নামের সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে মদ্যপ অবস্থায় গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হবে। বর্তমানে পুলিশ দল জালালের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফোরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।
এই ঘটনার পর কক্সবাজারের নিরাপত্তা বিভাগ স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জনসমাগমের স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিএনপি দলও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য প্রার্থনা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গুলিবারুদের ফলে পাঁচজনের শারীরিক ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে শীঘ্রই গ্রেফতার করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



