রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অজানা ব্যক্তিরা একাধিকবার গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভ। ঘটনাস্থলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পৌঁছায় এবং তিনি জরুরি সেবার মাধ্যমে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন।
আক্রমণটি কয়েকটি স্বতন্ত্র দফায় সম্পন্ন হয়, যা স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা গুলিবিদ্ধকে তৎক্ষণাৎ আহত অবস্থায় ছাড়িয়ে দেয়। গুলির সঠিক দিকনির্দেশনা ও ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভ রাশিয়ার জেনারেল স্টাফের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন এবং সামরিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার কর্মজীবন ও দায়িত্বের বিবরণে তিনি রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনায় অংশগ্রহণকারী একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।
আহত অবস্থায় থাকা আলেক্সেয়েভকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা দল তার জীবনরক্ষার জন্য তীব্র যত্ন প্রদান করছে। বর্তমান পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসা দল সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে জানিয়েছে যে গুলিবিদ্ধকে লক্ষ্য করে অজানা ব্যক্তি একাধিকবার গুলি চালিয়েছেন। কমিটি উল্লেখ করেছে যে গুলিবিদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি হুমকি বা পূর্বসতর্কতা পাওয়া যায়নি এবং আক্রমণটি হঠাৎ ঘটেছে।
রাশিয়ার সরকারী সংস্থা ঘটনাটির ওপর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে ভুক্তভোগীকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বিবৃতিতে হামলাকারী সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধ উল্লেখ করা যায়। দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে বহু সামরিক কর্মকর্তা লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি গুলিবর্ষণ ঘটেছে।
মস্কোর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর পূর্বে ঘটিত গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক শৃঙ্খলায় একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার ওপর একই রকম আক্রমণ ঘটেছে, যা নিরাপত্তা সংস্থার উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
কিছু আক্রমণের জন্য ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দায় স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে, যদিও সব ক্ষেত্রে দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি। এই ধরনের দায় স্বীকারের তথ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
তদন্ত কমিটি বর্তমানে গুলিবর্ষণের সুনির্দিষ্ট সময়, গুলি চালানো ব্যক্তির পরিচয় এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। এছাড়া, নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড, গুলির কেস এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহের মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুলিবর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাশিয়ার ফৌজদারি কোডের ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের ফলাফল যদি সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়, তবে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণ রোধে বাড়তি নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভের গুলিবর্ষণ রাশিয়ার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে নতুন মাত্রায় নিয়ে এসেছে এবং চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উন্মোচিত করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালত প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।



