বহু বছর ধরে টেলিভিশন ঘরে হাসির স্রোত বয়ে আনা ‘ভাবি জি ঘর পার হ্যাঁ!’ সিরিজের বড় স্ক্রিন রূপ, ‘ভাবি জি ঘর পার হ্যাঁ! ফান অন দ্য রান’, আজ ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থিয়েটার ঘরে প্রবেশ করেছে। এডিট II চ্যানেলের জনপ্রিয় সিটকমের চরিত্রগুলোকে নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি, টিভি দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা প্রেমিকদেরও লক্ষ্য করে একসাথে মঞ্চে হাজির হয়েছে।
সিরিজটি দশকের বেশি সময় ধরে পরিবারিক কমেডি, মিম এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সমাহার হিসেবে পরিচিত। তার আইকনিক ডায়ালগ ও স্বতন্ত্র চরিত্রগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে, ফলে একটি সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্যকে বড় পর্দায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্তটি, শোয়ের স্রষ্টা ও প্রযোজকদের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছে।
‘ফান অন দ্য রান’ ছবির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল একাধিক সমাপ্তি—দুটি ভিন্ন ক্লাইম্যাক্স। একই চলচ্চিত্রে দু’টি শেষ দেখানোর ধারণা কমেডি জঁরে অস্বাভাবিক এবং দর্শকের প্রত্যাশাকে অপ্রত্যাশিত মোড়ে ঘুরিয়ে দেয়। প্রতিটি সমাপ্তি গল্পের মূল মোড়কে উল্টে দেয়, ফলে শেষ পর্যন্ত দর্শককে চমকপ্রদভাবে বেঁধে রাখে।
ফিল্মে পরিচিত চরিত্রগুলো—অঙ্গুরি ভাবি, অনিতা, বিভূতি ও তিওয়ারী জি—একই পরিচিতি বজায় রেখে নতুন পরিবেশ ও উচ্চতর স্টেকের সঙ্গে দেখা দেয়। অঙ্গুরি ভাবি (শুভাংশি অতরে) তার স্বাভাবিক মিষ্টি স্বভাবের পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, আর অনিতা ও বিভূতি তাদের স্বতন্ত্র রসিকতা দিয়ে গল্পের গতি বাড়ায়। তিওয়ারী জি, যিনি সিরিজে সবসময়ই গৌরবময় উপস্থিতি, এবার আরও জটিল পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ে, যা দর্শকের জন্য নতুন রসিকতার দিক উন্মোচন করে।
শুভাংশি অতরে, যিনি অঙ্গুরি ভাবি চরিত্রে পুনরায় অভিনয় করেছেন, প্রকাশ্যে বলেন যে, দর্শকদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা এই প্রকল্পকে বিশেষ করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চরিত্রগুলো পরিচিত হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন, এবং এই নতুন যাত্রা পূর্বের কোনো পর্বের চেয়ে বেশি তীব্র। তার মতে, এই চলচ্চিত্রটি ভক্তদের জন্য একটি উপহার, যেখানে পুরনো স্মৃতি ও নতুন রোমাঞ্চ একসাথে মিশে আছে।
সহ-প্রযোজক ভিহান কোহলি একইভাবে চলচ্চিত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দু’টি সমাপ্তি যুক্ত করা একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা কমেডি জঁরে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিতে পারে। কোহলির মতে, এই পদ্ধতি দর্শকের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত সিনেমাটিক অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।
প্রকাশের পর থেকে, দর্শক ও সমালোচক উভয়ই ছবির নস্টালজিক উপাদান ও আধুনিক গল্পের মিশ্রণকে প্রশংসা করছেন। ‘ভাবি জি ঘর পার হ্যাঁ!’ সিরিজের দীর্ঘমেয়াদী জনপ্রিয়তা, নতুন গল্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দু’টি সমাপ্তির অনন্য ধারণা একত্রে সিনেমাটিকে বাজারে আলাদা অবস্থানে রাখছে। শিল্পের মধ্যে পূর্বানুমানযোগ্যতা কমেডি জঁরে প্রায়ই দেখা যায়, তবে এই চলচ্চিত্রটি সেই ধারা ভাঙার চেষ্টা করছে।
বক্স অফিসের দৃষ্টিকোণ থেকে, চলচ্চিত্রের মুক্তির দিনই প্রথম সপ্তাহের টিকিট বিক্রয়কে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য। সিরিজের ভক্তদের সমর্থন এবং নতুন দর্শকদের আকর্ষণ দু’ইই টিকিট বিক্রয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রটি যদি সফল হয়, তবে টেলিভিশন সিরিজের বড় পর্দায় রূপান্তরের মডেল হিসেবে ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকল্পের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ‘ভাবি জি ঘর পার হ্যাঁ! ফান অন দ্য রান’ আজকের সিনেমা বাজারে নস্টালজিয়া ও উদ্ভাবনের সমন্বয় নিয়ে এসেছে। দু’টি ক্লাইম্যাক্সের মাধ্যমে কমেডি জঁরে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, এবং পরিচিত চরিত্রগুলোকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দেখিয়ে দর্শকের প্রত্যাশাকে পুনর্গঠন করেছে। এই উদ্যোগটি সিরিজের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির ফল, যা আগামী সপ্তাহে থিয়েটার ঘরে দর্শকের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিমাপ হবে।



