২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবেদনপত্রের প্রথম গ্রহণের সময় ছিল বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটায়, এবং আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১ মার্চ পর্যন্ত। ফি পরিশোধের শেষ তারিখ ২ মার্চ, যা আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত এক দিনের সুযোগ প্রদান করে।
এই তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর, যিনি ২ ফেব্রুয়ারি তারিখের একটি বিজ্ঞপ্তিতে সকল প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক প্রণীত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি নীতিমালা অনুসারে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, পাশাপাশি ইউনিটে ভর্তি আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হবে।
বিএমডিসি নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের টেলিটক (TeleTalk) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন জমা দিতে হবে। এই পদ্ধতি আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত হয়েছে। আবেদন ফরম পূরণ করার সময় নির্দেশনাগুলি মনোযোগসহকারে পড়ে, সঠিকভাবে তথ্য প্রদান করা আবশ্যক।
অধিকন্তু, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। আবেদন ফরমে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা এবং কোনো ধাপ বাদ না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রদান করলে আবেদন বাতিলের সম্ভাবনা থাকে।
আবেদন ফি নির্ধারিত হয়েছে ৩০০ টাকার, যা শুধুমাত্র প্রি-পেইড টেলিটক নম্বরের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। ফি প্রদান ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না, এবং ফি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করা পরবর্তী ধাপে প্রয়োজন হতে পারে।
সরকারি নির্ধারিত ফি কাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য, এবং কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বা অবৈধ ফি আদায় করা যাবে না। সকল ফি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন করা হবে, ফলে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। আবেদনকারীকে ব্যাংক ট্রান্সফার রসিদ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে তা উপস্থাপন করা যায়।
আবেদন প্রক্রিয়া, ফি পরিশোধের পদ্ধতি এবং ভর্তি সংক্রান্ত বিশদ তথ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট এবং টেলিটক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এই সাইটগুলোতে ফরমের নমুনা, পূরণ নির্দেশিকা এবং প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।
আবেদন, নিরীক্ষণ, কলেজ নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত ভর্তি সবই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তাই আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যদি কোনো ধাপে অসম্পূর্ণ বা ভুল প্রমাণিত হয়, তবে তার আবেদন বাতিল করা হবে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হবে।
প্রার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস: আবেদন ফরম পূরণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি—শিক্ষা সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, টেলিটক নম্বর ইত্যাদি—একই স্থানে প্রস্তুত করে রাখুন, এবং ফরম পূরণ শেষে রসিদ ও স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। এইভাবে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা তথ্যের ঘাটতি দ্রুত সংশোধন করা সম্ভব হবে।



