কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার আলীখালী রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক‑এ/০৪ (পুরাতন ব্লক‑ডি/০৬) এলাকায় ডাম্পার গাড়ি থেকে গুলি ছোড়া হয়। গুলির ফলে দুইজন রোহিঙ্গা ও তিনজন বাংলাদেশি আহত হন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে নূর হোসেনের ৩৬ বছর বয়সী পুত্র আব্দুর রহমান এবং নূরুল হকের ১৩ বছর বয়সী পুত্র মোহাম্মদ জিসান অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশি আহতদের মধ্যে হ্নীলা আলীখালী এলাকার ভেক্কা মিয়ার ৩৮ বছর বয়সী পুত্র বাচ্চা মিয়া, আব্দুল জলিলের ১৮ বছর বয়সী কন্যা নূসরাত জাহান এবং নুর ইসলামের ১১ বছর বয়সী পুত্র শাহাবুদ্দিন রয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের প্রথমে আলীখালী আইআরসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে চিকিৎসা সুবিধার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গুলির সঠিক দায়িত্বকারী বা গুলি চালানোর উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়; তদন্ত চলমান। টেকনাফ মডেল থানা ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গুলিবিদ্ধের সংখ্যা পাঁচজন নিশ্চিত করে, তদন্তের মাধ্যমে গুলি চালানোর ব্যক্তিদের পরিচয় বের হবে বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রের মতে, গুলি চালানোর সময় ডাম্পার গাড়িতে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো হচ্ছিল। গাড়ির চারপাশে জনতা জড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলি চালানো দলকে ‘দুর্বৃত্ত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, তবে তাদের পরিচয় বা মোটিভ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলীখালী এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ উল্লেখ করেন, গুলির সময় প্রচারণা গাড়িতে সঙ্গীত বাজছিল এবং আশেপাশে মানুষ জমায়েত হয়েছিল। গুলির পরপরই পাঁচজন আহত হয়, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তিনি জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদারও ঘটনাটির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা ট্রাকটি ঐ এলাকায় গিয়ে জনতা জড়ো হওয়ার সময় গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধের সংখ্যা পাঁচজন, তবে গুলি চালানোর দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে শিশুর আঘাতের কারণে বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, গুলি থেকে প্রাপ্ত ক্ষতগুলির জন্য শল্যচিকিৎসা এবং রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। গুলির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। গুলি চালানোর সরঞ্জাম, গুলি চালানোর সময়ের ভিডিও রেকর্ড এবং গুলিবিদ্ধদের বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার ফলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ধরনের হিংসা নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তাই সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত প্রচারণা চালানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। গুলিবিদ্ধদের দ্রুত সেরে ওঠা এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়া এই ঘটনার পরবর্তী মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



