ভারত এ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক আলোচনার ফলস্বরূপ মার্চ মাসে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল শেষ সপ্তাহে একত্রিত হয়ে চূড়ান্ত শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করেছে এবং শীঘ্রই চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভারত এ’র বাণিজ্য মন্ত্রী পিযূষ গয়াল রোয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, আগামী মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হ্রাসের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনা উভয় পক্ষের জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। ভারত এ চুক্তি স্বাক্ষরের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ভারত এর রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো উভয় দেশের রপ্তানি-আয়াতের ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করবে।
পিযূষ গয়াল জানান, চুক্তি সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতি আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। বিবৃতিতে উভয় দেশের বাণিজ্য নীতি, শুল্ক হ্রাসের সময়সূচি এবং পরবর্তী ধাপের বিশদ উল্লেখ থাকবে। এই প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত।
বাণিজ্যিক আলোচনার পটভূমি এক বছরের বেশি সময়ের। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন সফরের পর দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রথমবারের মতো টেবিলে বসে আলোচনার সূচনা করে। তখন থেকে ধারাবাহিকভাবে মিটিং চালিয়ে চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে শর্তাবলীর পারস্পরিক অমিলের কারণে চুক্তি আটকে গিয়েছিল। উভয় দেশের কর্মকর্তারা বারবার টেবিলে বসে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন, তবে চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে সন্দেহের স্রোত বজায় ছিল। এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আলোচনার গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই উদ্যোগী ছিল।
গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হঠাৎ করে বাণিজ্য সমঝোতার কথা প্রকাশ করেন। এই ঘোষণার ফলে বাজারে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন উত্তেজনা দেখা দেয়। ট্রাম্পের বক্তব্যে রাশিয়া থেকে তেল না কিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলা থেকে তেল ক্রয়ের ইঙ্গিত ছিল, যা ভারত এর জ্বালানি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য না থাকলেও পিযূষ গয়াল পরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এ বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি করবে এবং এই নীতি পূর্বে থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছে। এই মন্তব্য শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের বৈচিত্র্যকেও তুলে ধরে।
শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্য চুক্তি উভয়ই উভয় দেশের রপ্তানি-আয়াতের পরিমাণ বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি ও পারস্পরিক মানদণ্ডের সুনির্দিষ্টতা না থাকলে কিছু সেক্টরে অস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সামগ্রিকভাবে, মার্চে চুক্তি স্বাক্ষর হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।



