গত সপ্তাহে শি জিন পিং একদিনে দু’টি উচ্চপর্যায়ের ফোন কল সম্পন্ন করেন – রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। দু’টি আলাপ একসঙ্গে হওয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল এবং চীনের বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার সংকেত হিসেবে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করছেন।
দ্য এশিয়া গ্রুপের পার্টনার জর্জ চেন অনলাইন মন্তব্যে উল্লেখ করেন, শি জিন পিং সাধারণত একের পর এক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কল করেন না; তাই এই সমন্বয় বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা জানান, শি ও পুতিনের কথোপকথন প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। অন্যদিকে, ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তার ও শি জিন পিংয়ের আলাপ দীর্ঘ ও বিশদ ছিল।
সিঙ্গাপুরের ন্যানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডিলান লোহের মতে, এই ঘটনা শি জিন পিংকে তার নিজস্ব কূটনৈতিক মঞ্চে প্রভাব বজায় রাখতে এবং একই সময়ে বিশ্বের দুই সর্বশক্তিমান নেতার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। লোহ বলেন, চীনের জন্য রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ, তবে তিনি সতর্ক করেন যে কলের সময়সূচি কেবলমাত্র লজিস্টিক বিষয়ও হতে পারে।
ট্রাম্পের বিবরণে দেখা যায়, তিনি ও শি জিন পিং বাণিজ্য, রাশিয়ার ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ইরান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, শি চীন এই মৌসুমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনের ক্রয় ২০ মিলিয়ন টনে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। লোহের বিশ্লেষণ অনুসারে, এই ফোনালাপ আন্তর্জাতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও মার্কিন-চীনের কৌশলগত সম্পর্ককে সাময়িকভাবে স্থিতিশীল রাখবে।
শি ও পুতিন উভয়ই চীন-রাশিয়া সম্পর্কের শক্তিশালী হওয়ার প্রশংসা করেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে একত্রে সমর্থন প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। রাশিয়ার ২০২২ সালের ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে দুই দেশের বন্ধন আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে; মস্কো আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিকভাবে একাকী হয়ে পড়েছে। একই সময়ে, আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেন।
ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপের সময় পুতিন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে চীন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প এপ্রিল মাসে বেইজিং সফরের পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অতিরিক্তভাবে, পুতিন নভেম্বর মাসে শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকরা এই সমন্বিত কূটনৈতিক যোগাযোগকে চীনের বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। শি জিন পিংয়ের একসঙ্গে দুই শক্তিশালী নেতার সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে চীন আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপের ধারাবাহিকতা চীন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, শি জিন পিংয়ের একদিনে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ কূটনৈতিক দিক থেকে এক নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে চীন তার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।



