মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাশিয়া কর্তৃক প্রস্তাবিত নিউ স্টার্ট চুক্তির স্বেচ্ছা মেয়াদবর্ধনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন। রাশিয়া, যা পারমাণবিক অস্ত্রের কৌশলগত সীমা স্বেচ্ছায় বাড়াতে চেয়েছিল, তার প্রস্তাবের মুখে ট্রাম্প নতুন, আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির পক্ষে অবস্থান নেন। এই সিদ্ধান্তটি নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই প্রকাশিত হয়, যখন উভয় দেশের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো কার্যকর সীমা অবশিষ্ট নেই।
রাশিয়া সম্প্রতি জানিয়েছে যে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও স্বেচ্ছায় এক বছরের জন্য সীমা বাড়িয়ে পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইচ্ছুক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এই প্রস্তাবের প্রতি কোনো ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে, ট্রাম্পের টুইটের মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানান যে, পুরোনো চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথাযথভাবে আলোচিত হয়নি এবং ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, পুরোনো চুক্তির পরিবর্তে উভয় দেশের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নতুন, আধুনিক এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি গঠন করা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নতুন চুক্তিতে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা স্বার্থের সমন্বয় নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা পুনরায় তীব্র না হয়।
এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন যে, নতুন চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা রয়েছে, তবে বেইজিং এই প্রস্তাবে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। চীনের অংশগ্রহণ না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কূটনীতিতে অতিরিক্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার দিক নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে উভয় দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ও ব্যবহার সীমা নিয়ে কোনো বাধ্যতামূলক নিয়মাবলী অবশিষ্ট নেই, ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উদ্বেগের সঞ্চার ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই শূন্যতা পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি পেলে রাশিয়া এক বছর অতিরিক্ত চুক্তির শর্ত মেনে চলতে প্রস্তুত থাকবে বলে প্রকাশ করেছিলেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের পর রাশিয়া দুঃখ প্রকাশ করে, এবং ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান যে, রাশিয়া পারমাণবিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও সতর্ক নীতি অনুসরণ করবে, যদিও জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।
আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি শিহাব রাত্তানসি জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদল ছয় মাসের জন্য নিউ স্টার্ট চুক্তি বাড়ানোর বিষয়েও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে। তবে চুক্তির মূল কাঠামো অনুযায়ী আর কোনো আনুষ্ঠানিক মেয়াদবর্ধনের সুযোগ নেই, ফলে দুই পক্ষই বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
অধিকন্তু, ভারত ও পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই আঞ্চলিক সংঘাতগুলো পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণমূলক চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
বিশ্বের নেতারা এখন নতুন পারমাণবিক চুক্তি গঠনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে, যাতে মেয়াদ শেষ হওয়া নিউ স্টার্টের শূন্যতা পূরণ হয় এবং পারমাণবিক প্রতিযোগিতার ঝুঁকি কমে। ট্রাম্পের নতুন চুক্তির আহ্বান এবং রাশিয়ার দায়িত্বশীল নীতি উভয়ই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংলাপের নতুন দিক নির্দেশ করে, তবে বাস্তবায়নের পথ এখনও অনিশ্চিত।



