দিল্লি-ঢাকা রেললাইন পার হয়ে ঢাকা শহরের কেন্দ্রের হোটেল সোনারগাঁওতে আজ বিকাল ৩:৩০ টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার উন্মোচন করবে। এই অনুষ্ঠানে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি, জনগণের চাহিদা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর সঞ্চালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। উভয়ই দলের অভ্যন্তরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন।
এই ইশতেহার ঘোষণায় দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব স্পষ্ট। তারেকের জন্য এটি প্রথমবারের মতো শীর্ষ পর্যায়ে নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপনের সুযোগ, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নতুন দিক দিয়ে গঠন করবে। অতীতে দলটি পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচনের সময় পর্যন্ত প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধানে ইশতেহার প্রকাশ করত।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে, খালেদা জিয়া কারাবন্দি অবস্থায় থাকলেও, দলটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই নির্বাচনের ইশতেহার ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থাপন করেন। তবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটি সম্পূর্ণভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তারেকের মতে, নতুন ইশতেহারে শীর্ষ নেতৃত্বের ভিশন পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রস্তাবিত নীতি বাস্তবভিত্তিক, টেকসই এবং দেশের উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি নির্বাচনী কমিটির সদস্য, মিডিয়া প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার প্রকাশের পর দলীয় কর্মীরা পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও বিতরণ করেন, যাতে ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানো যায়।
আওয়ামী লীগ ও সরকারী পক্ষ থেকে এখনো এই ঘোষণার প্রতি কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, এই ইশতেহারটি ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভোটাভিলি কৌশলকে প্রভাবিত করবে এবং বিরোধী শক্তির মধ্যে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে।
ইশতেহার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মীরা গ্রাম-গ্রাম, শহর-শহরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করবে বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি এই ইশতেহারকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কৃষি ও শিল্পখাতে উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করবে। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যেও বিশেষ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই নীতি প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য পার্টি ও সরকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নীতি কার্যকর করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর যদি দলটি সংসদে প্রবেশ করে, তবে এই ইশতেহারকে আইনগত কাঠামোতে রূপান্তরিত করার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালাবে।
অবশেষে, ইশতেহার প্রকাশের পর দলীয় কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করেছে এবং সামাজিক মিডিয়ায় পরিকল্পনার সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগগুলো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং পরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির এই ইশতেহার প্রকাশের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নীতি প্রস্তাবগুলো কীভাবে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করবে এবং বিরোধী দলগুলোর কৌশলকে কীভাবে পরিবর্তন করবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



