23 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচাঁদপুরে ধানের শীষ‑চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত

চাঁদপুরে ধানের শীষ‑চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত

রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা অধীনে গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ৬ নং এলাকায় ধানের শীষ ও চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়, যার ফলে অন্তত বিশজন আহত হন। সংঘর্ষের পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মুক্তপ্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম এ হান্নানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক গুপ্টি পশ্চিমের হোগলি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা দুইবার মিছিলের মাধ্যমে উপস্থিতি বাড়িয়ে তোলেন, ফলে উত্তেজনা বাড়ে এবং হান্নানকে তার বক্তব্য শেষ করতে বাধ্য করা হয়।

হান্নান পরে সমর্থকদের সঙ্গে ৩ নং ওয়ার্ডের ষোলদানা গ্রামে আরেকটি উঠান বৈঠকে যান। সেখানে আবার মিছিলের কারণে উত্তেজনা পুনরায় তীব্র হয়। হান্নান কর্মসূচি স্থগিত করে খাজুরিয়া বাজারে যান, যেখানে দুই দলের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষ রাত ৯টা পর্যন্ত চলতে থাকে, এরপর রূপসা বাজার এলাকায়ও সহিংসতা ছড়ায়। রূপসা উত্তর ইউনিয়নে উভয় পক্ষের মধ্যে তিনটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ধ্বংস হয়। একই সঙ্গে চিংড়ি প্রতীকের একটি কার্যালয়ও ভাঙচুরের শিকার হয়।

দুপুরের পর ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষ সমর্থক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপনকে মোটরসাইকেলে গমনকালে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের আক্রমণ করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ফলে দু’জনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

আহতদের তালিকায় চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সচিব ফারুক হোসেন এবং জিসান পাটওয়ারী অন্তর্ভুক্ত। ধানের শীষ সমর্থকদের মধ্যে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন, রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল, মো. এমরান, হোসেন স্বপন ও আব্দুল কাদির সহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

উভয় দলই একে অপরকে দায়ী করে তীব্র মন্তব্য করে। ধানের শীষ সমর্থকরা চিংড়ি প্রতীকের মিছিলকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বলে অভিযোগ করে, আর চিংড়ি সমর্থকরা ধানের শীষ দলের আক্রমণাত্মক আচরণকে দোষারোপ করে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা বাড়ে এবং তা দ্রুতই হিংসাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সেনা ও পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি ও আহতের সংখ্যা বাড়ার ফলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার প্রভাব নির্বাচনী পরিবেশে স্পষ্ট। চাঁদপুর-৪ আসনের দু’প্রতিদ্বন্দ্বীর সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে এই ধরনের সংঘর্ষ ভবিষ্যতে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা দাবি করবে। নির্বাচনী কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

অবশেষে, দুইজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া মোবাইল আদালতের রায়ের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে উভয় দলের মধ্যে অবশিষ্ট উত্তেজনা দূর না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সতর্কতা বজায় থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments