একক পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (PASHA) ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ অনুমোদন পায়। সংস্থাটি ১৩তম জাতীয় সংসদ ও গণভোটে ১০,৫৫৯ পর্যবেক্ষক পাঠাবে, যা দেশি পর্যবেক্ষকদের মোট ১৯ শতাংশ গঠন করে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইলেকশন কমিশন (ইসি) এই অনুমোদন প্রদান করেছে।
PASHA-র অফিসটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুর গ্রামে, পরিচালক নিজ বাড়ির একটি কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কক্ষটি আনুষ্ঠানিক অফিসের চেয়ে ব্যক্তিগত বাসা, যেখানে কোনো আলাদা কর্মী বা স্টাফ নেই। তবু সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।
সংস্থার কোনো স্থায়ী কর্মী না থাকলেও ইসির অনুমোদনে ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। PASHA স্বয়ং কোনো স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্প চালায় না, বরং অন্যান্য এনজিওর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করে। এবার ভোট পর্যবেক্ষণে এই অংশীদারিত্বের মডেলকে ব্যবহার করে অন্য সংস্থাগুলোকে সহযোগী হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে।
ইসির ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষণায় মোট ৮১টি দেশি সংস্থার জন্য ৫৫,৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে PASHA সর্বোচ্চ সংখ্যা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, এরপর কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (CARD) ৩,৫৬১ জন পর্যবেক্ষক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। এক হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক পাঠানো ১৫টি সংস্থা রয়েছে, যা মোট পর্যবেক্ষক সংখ্যার বৈচিত্র্য প্রকাশ করে।
পূর্ববর্তী নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ইসি সব বিদ্যমান সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে নতুন আবেদন আহ্বান করে। ২০২২ সালের ২৭ জুলাই থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়, এবং ৭ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৬৬টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেয়, যার মধ্যে PASHA অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তী ডিসেম্বরে PASHA সহ আরও ১৫টি সংস্থা অনুমোদিত হয়, ফলে মোট ৮১টি সংস্থা তালিকাভুক্ত হয়।
PASHA-র কার্যক্রমের মূল বৈশিষ্ট্য হল কোনো নিজস্ব কর্মী না থাকা সত্ত্বেও বৃহৎ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা। সংস্থাটি নিজস্ব প্রকল্পের পরিবর্তে অন্যান্য এনজিওর সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যবেক্ষক প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ পরিচালনা করে। এই মডেলটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে, তবে একই সঙ্গে প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।
অন্যান্য এনজিও ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো PASHA-র একক পরিচালক মডেলকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে যে কোনো সংস্থার স্বতন্ত্র কর্মী না থাকলে পর্যবেক্ষকের গুণগত মান ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। এছাড়া, একাধিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার সময় দায়িত্বের স্পষ্টতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা দাবি করে।
রাজনৈতিক দলগুলোও PASHA-র বৃহৎ পর্যবেক্ষক সংখ্যা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছে। কিছু দল ইসির অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে কিছু দল এই পর্যবেক্ষক সংখ্যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সকলেই একমত যে পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশাল পর্যবেক্ষক দল গঠনের ফলে নির্বাচনের ফলাফল যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হতে পারে, তবে একই সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ইসির তত্ত্বাবধানে পর্যবেক্ষক প্রশিক্ষণ, কোড অফ কন্ডাক্ট এবং তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের একক পরিচালক সংস্থার ভূমিকা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের দিন কেবলমাত্র ভোটার ও ইসির অনুমোদিত পর্যবেক্ষকই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার সদস্যকে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে অনুমতি দেওয়া হবে না। এই নিয়মের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে যে পর্যবেক্ষকরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে এবং ফলাফল যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হবে।
PASHA-র বৃহৎ পর্যবেক্ষক সংখ্যা এবং একক পরিচালকের মডেল নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তবে এর কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইসির তদারকি ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের মান উন্নয়নে এই ধরনের মডেল কী ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে।



