ঢাকা‑৫ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম, যিনি আইনজীবী পেশা চালান, নির্বাচনী প্রচারকালে একা হাঁটা‑হাঁটি করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তিনি জানান, জনসংযোগের সময়ে কোনো সঙ্গী সঙ্গে থাকলে জটিলতা বাড়ে, ভোটাররাও তা পছন্দ করে না; তাই তিনি একা লিফলেট বিতরণ, কথোপকথন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করেন।
প্রচারের সময় মানুষ তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য থেমে যায়, চা পান করার জন্য আহ্বান জানায় এবং স্বাভাবিকভাবে তার সঙ্গে আলাপ করে। আলমের মতে, এমন প্রার্থী যাঁর সঙ্গে ‘চামচারা’ (সঙ্গী) নেই, সংসদ সদস্য হলে ভোটারদের জন্য বেশি উপকারী হবে। তিনি ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং তার মোবাইল নম্বরটি ভোটারদের হাতে রাখার জন্য উৎসাহিত করছেন।
ঢাকা‑৫ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন জাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা থেকে মোট ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,১৯,৯৯৬। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমানে ১১ জন প্রার্থী তালিকাভুক্ত, যার মধ্যে বিএনপি থেকে মো. নবী উল্লা, যিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, প্রধানত প্রচার চালাচ্ছেন।
বিএনপি প্রার্থী মো. নবী উল্লা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় বেশি দৃশ্যমানতা পেয়েছেন; তার ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিলবোর্ড বেশিরভাগ এলাকায় দেখা যায়। তবুও জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী মো. কামাল হোসেনও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। তিনি ১‑৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সায়েদাবাদ, ব্রাহ্মণচিরণ, দক্ষিণ জাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোড, উত্তর জাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা, দক্ষিণ কাজলা, ছনটেক, শেখদী, গোবিন্দপুর, কাজলার পাড়, ভাঙ্গাপ্রেস, মৃধাবাড়ী, মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার, মাতুয়াইল পশ্চিমপাড়া, মাতুয়াইল উত্তরপাড়া, মাতুয়াইল শরীফপাড়া, কোনাপাড়া, ধার্মিকপাড়া, রায়েরবাগ, ডগাইর, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ডেমরা বাজার, মীরপাড়া ও পাইটি এলাকা ঘুরে দেখেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ইবরাহীমও কিছু এলাকায় হাতপাখা (হ্যান্ড ফ্যান) ব্যবহার করে প্রচার চালিয়েছেন, যদিও তার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। অন্যান্য ছোট দল ও স্বাধীন প্রার্থীরাও ব্যানার ও পোস্টার দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।
প্রতিটি প্রার্থীর প্রচার কৌশল ভিন্ন হলেও, সাইফুল আলমের একাকী প্রচার পদ্ধতি তার স্বচ্ছতা ও সরলতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, একা চললে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ সম্ভব হয়, যা ভোটারদের চাহিদা ও সমস্যার দ্রুত ধারণা করতে সহায়তা করে। তার আইনি পেশা থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে, তিনি ভোটারদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা তার ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বিএনপি প্রার্থী নবী উল্লা তার প্রচারকে ‘বিস্তৃত নেটওয়ার্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যেখানে দলীয় কাঠামো ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সমর্থন রয়েছে। জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী কামাল হোসেনও তার ঐতিহ্যবাহী সমর্থনভিত্তি ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়কে তার শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ঢাকা‑৫ আসনে ভোটারসংখ্যা ও বৈচিত্র্য বিবেচনা করলে, প্রার্থীদের প্রচার কৌশল ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাইফুল আলমের ‘একাই প্রচার, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা’ মডেল যদি ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে তা তার ভোটের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, বৃহৎ দলগুলোর সংগঠিত প্রচার ও প্রচারমূলক সামগ্রীও ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে কার্যকর হতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে, সকল প্রার্থীই ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে কোন প্রার্থী সর্বোচ্চ সমর্থন পাবে, তা শেষ পর্যন্ত ভোটের দিনই স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, সাইফুল আলমের স্বতন্ত্র প্রচার পদ্ধতি এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতি তার প্রচারকে আলাদা করে তুলেছে, যা ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



