16 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেনঝেনের হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা, দম্পতি অনলাইন পোরনে প্রকাশিত

শেনঝেনের হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা, দম্পতি অনলাইন পোরনে প্রকাশিত

শেনঝেন, চীন – ২০২৩ সালের এক রাতে একটি অনলাইন পোরন চ্যানেলে ভিডিও দেখা সময় এক ব্যবহারকারী হঠাৎ থেমে গেলেন। ভিডিওতে রুমে প্রবেশ, ব্যাগ রাখার পর যৌন ক্রিয়াকলাপের দৃশ্য দেখলে তিনি বুঝতে পারলেন যে সেটি নিজের এবং গার্লফ্রেন্ডেরই রেকর্ড। তিন সপ্তাহ আগে তারা শেনঝেনের একটি হোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন, তবে রুমে গোপন ক্যামেরা বসানো ছিল না বলে তারা অজ্ঞ ছিলেন।

এই গোপন রেকর্ডিংয়ের ভিডিওটি একই চ্যানেলে হাজারো অচেনা ব্যবহারকারীর সামনে প্রকাশিত হয়, যা মূলত পোরন কন্টেন্টের জন্য ব্যবহৃত হয়। ফলে ওই দম্পতি কেবল ভোক্তা নয়, গোপন ক্যামেরা শিল্পের শিকারী হয়ে ওঠেন।

চীনে গোপন ক্যামেরা দিয়ে পোরন তৈরি করা প্রায় দশ বছর ধরে বিদ্যমান, যদিও দেশীয় আইন অনুযায়ী পোরন উৎপাদন ও বিতরণ নিষিদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে নারীরা কীভাবে ছোট পেন্সিল ইরেজার আকারের ক্যামেরা সনাক্ত করা যায় তা নিয়ে তথ্য শেয়ার করছেন। কিছু নারী হোটেল রুমে তাঁবু গড়ে ক্যামেরা এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

অক্টোবর ২০২৩-এ সরকার হোটেল মালিকদের গোপন ক্যামেরা নিয়মিত পরীক্ষা করার নির্দেশিকা জারি করে, তবে এই নিয়মের কার্যকারিতা সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে। হোটেল রুমে গোপনভাবে রেকর্ডিংয়ের ঝুঁকি এখনও অদূরবর্তী।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের তদন্তে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে হাজারো গোপন ক্যামেরা ভিডিও হোটেল রুমে রেকর্ড করে পোরন সাইটে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ কন্টেন্ট টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। ১৮ মাসের সময়কালে ছয়টি ভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে, যা মোট ১৮০টিরও বেশি হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে লাইভস্ট্রিমিং করে।

একটি নির্দিষ্ট সাইটকে সাত মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হলে ৫৪টি ভিন্ন ক্যামেরা থেকে রেকর্ডেড ভিডিও পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময়ে সক্রিয় ছিল। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে গোপন ক্যামেরা নেটওয়ার্কের পরিধি এবং কার্যক্রম ব্যাপক।

চীনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও হোটেল শিল্পের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বর্তমানে এই অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। গোপন ক্যামেরা স্থাপনকারী ও ভিডিও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত চালু হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

শেনঝেনের এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিকটিমদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আইনি পরামর্শের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সরকারী নীতি ও হোটেল ব্যবস্থাপনা উভয়ই গোপন ক্যামেরা সনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

গোপন ক্যামেরা পোরন শিল্পের বিস্তার এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক ক্ষতি নিয়ে সমাজে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হোটেল রুমে ক্যামেরা সনাক্তকরণের সরঞ্জাম ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই বিষয়টি নিয়ে চলমান তদন্তের ফলাফল এবং সরকারী পদক্ষেপের কার্যকারিতা ভবিষ্যতে গোপন ক্যামেরা সংক্রান্ত অপরাধের হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments