থাইল্যান্ডের নাখন রাচাসিমা জেলার গ্রামীণ নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত প্রগতিশীল প্রার্থী সুট্টাসিট “ম্যাকি” পোট্টাসাক, ২০২৩ সালের শেষ নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রথম ধাপের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি তরুণ, আদর্শবাদী এবং কঠোর পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত, এবং তার রাজনৈতিক যাত্রা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে চায়।
ম্যাকি পোট্টাসাকের পূর্বে টেলিভিশন নাট্য প্রযোজনা ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার ছিল, যা তিনি ত্যাগ করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। নাখন রাচাসিমা শহরের নিকটবর্তী পুরনো রাজনৈতিক পরিবারকে পরাজিত করে তিনি গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন অর্জন করেন। তার প্রচারণার চিহ্নে জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’ এর প্রধান চরিত্র লাফির টুপি ও পতাকা ব্যবহার করা হয়, যা সাম্প্রতিক এশীয় যুব প্রতিবাদে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
প্রতিদিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে পার্টির নীতি ব্যাখ্যা করে হালকা মেজাজের ভিডিও প্রকাশ করেন, যেগুলো লক্ষ লক্ষ দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ডিজিটাল পদ্ধতি তার তরুণ সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এবং প্রচলিত রাজনীতির শুষ্ক চিত্রকে ভিন্ন রঙে রাঙায়।
“রাজনীতি পুরনো প্রজন্মের তৈরি এক বোরিং ক্ষেত্র,” তিনি এক সাক্ষাতে বলেন। “আমি এটিকে মজাদার করতে চাই, তাই লাফি ও ভিডিও সিরিজ যুক্ত করেছি। আমাদের কাছে ভোট কেনার টাকা নেই, আমরা সাধারণ নাগরিক, তবে সমস্যার সমাধানে দৃঢ় সংকল্প রয়েছে,” এই বক্তব্যে তিনি নিজের সাদামাটা পরিচয় ও পরিবর্তনের ইচ্ছা জোর দেন।
প্রায় তিন বছর আগে, একই প্রগতিশীল গোষ্ঠী ‘মুভ ফরওয়ার্ড’ পার্টি অপ্রত্যাশিতভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করে, যা সামরিক বাহিনী ও বৃহৎ ব্যবসার ওপর দায়িত্বশীলতা বাড়ানো এবং লেসে মাজারে (রাজা অপমান) কঠোর শাস্তি হ্রাসের মতো মৌলিক সংস্কার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
এই সংস্কারগুলোতে সামরিকের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো, কর্পোরেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং রাজা সম্বন্ধে অপরাধের শাস্তি হ্রাসের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এই লক্ষ্যগুলোকে দেশের রক্ষণশীল শক্তি হুমকি হিসেবে দেখেছিল।
অবৈধভাবে নির্বাচিত সেনেট ও সংবিধানিক আদালত এই পার্টির সরকার গঠন বাধা দেয়, পার্টি বিলুপ্ত করে এবং এর নেতাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালত যুক্তি দেয় যে লেসে মাজার সংশোধনের প্রস্তাব পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত।
এর পরের তিন বছর থাইল্যান্ডে স্বল্পমেয়াদী জোট সরকার, দুইজন প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধানিক আদালত কর্তৃক পদচ্যুত করা এবং কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের মতো অস্থিরতা দেখা দেয়। এই অস্থিরতা প্রগতিশীল শক্তিকে পুনরায় সংগঠিত হতে বাধ্য করে, এবং তারা নতুন নাম ‘পিপলস পার্টি’ গ্রহণ করে আবার ভোটের মঞ্চে ফিরে আসে।
নতুন পার্টির নেতৃত্বে নাথাপং রুয়েংপান্যাওয়ুতের অধীনে তরুণদের উচ্ছ্বাস ও আদর্শিক উজ্জীবন আবার দেখা যায়। নাখন রাচাসিমা শহরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বড় সংখ্যক ভক্ত সমাবেশিত হয়ে পার্টির লক্ষ্য ও নীতি শোনার জন্য অপেক্ষা করে।
সমাবেশে নাথাপং উল্লেখ করেন, প্রগতিশীল শক্তি এখনো দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে রক্ষণশীল শক্তি ও সংবিধানিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি বলছেন, “আমরা ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছি, এখন তা বাস্তব নীতিতে রূপান্তরিত করতে হবে।”
রক্ষণশীল গোষ্ঠী, বিশেষ করে সেনেট ও সংবিধানিক আদালত, লেসে মাজার সংস্কারকে জাতীয় ঐতিহ্যের ক্ষতি হিসেবে দেখছে এবং পার্টির প্রস্তাবগুলোকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী হিসেবে চিহ্নিত করছে। তারা দাবি করে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বর্তমান আইনগুলো অপরিবর্তনীয়।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি পিপলস পার্টি ভোটে পুনরায় জয়লাভ করে, তবে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সামরিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে, এবং লেসে মাজার সংশোধনের মতো সংস্কার ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে রক্ষণশীল সংস্থার বিরোধী মনোভাব ও আদালতের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এখনও উচ্চ, যা পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলবে।
ভবিষ্যতে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রগতিশীল ও রক্ষণশীল শক্তির মধ্যে সমতা বজায় রাখা, সংবিধানিক সংস্থার স্বাধীনতা এবং জনগণের স্বার্থের সমন্বয় কীভাবে ঘটবে, তা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।



