যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক এক ছাত্রনেতা, তার মৃত স্ত্রী ও নবজাতক শিশুর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য পারোলার আবেদন জমা দিলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন না করে তাকে কারাবন্দি অবস্থায় রাখে। একই ধরনের সিদ্ধান্ত কিশোরগঞ্জের আরেক বন্দির ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার পিতার মৃত স্বামী ও সন্তানদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারোলার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই দুইটি ঘটনা দেশের মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, কারণ পারোলার অধিকার সংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির অধীনে স্বীকৃত।
নেলসন ম্যান্ডেলা একবার উল্লেখ করেছেন, কারাগার জীবন ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা, যা বন্দীর প্রতিশ্রুতিকে পরীক্ষা করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল বন্দীদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং আইনগত অধিকারগুলো পূরণ করা। বাংলাদেশে পারোলার নীতি, বিশেষ করে আত্মীয়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য, আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে, তবে বাস্তবে প্রয়োগে ধারাবাহিকতা দেখা যায় না।
আইন অনুযায়ী, যদি কোনো বন্দি আত্মীয়ের মৃত্যুর পর দুঃখ প্রকাশের জন্য পারোলার আবেদন করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ বিবেচনা করে অনুমোদন দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বন্দিদের এই অধিকার প্রায়শই অস্বীকার করা হচ্ছে, যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শীর্ষে রয়েছে। পারোলার অননুমোদন কেবল ব্যক্তিগত কষ্টই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্বের প্রতি আস্থা ক্ষয় করে।
যশোরের ছাত্রনেতা, যিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার হয়েছেন, তার স্ত্রী ও নবজাতক শিশুর মৃত্যুর পর পরিবার কর্তৃক পারোলার আবেদন করা হয়। আবেদনপত্রে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জরুরি প্রয়োজন উল্লেখ করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট কারণ না দিয়ে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে তিনি তার স্বামী ও শিশুর দেহ দেখার সুযোগ পাননি, এবং শেষ পর্যন্ত আত্মীয়দের শোকের সময়ে কারাগারে থাকতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় আইনজীবীরা প্রকাশ্যে বলছেন, পারোলার প্রত্যাখ্যান মানবিক নীতি ও আইনের বিরোধী। তারা উল্লেখ করেন, এমন সিদ্ধান্তের ফলে বন্দি ও তার পরিবারকে অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির লঙ্ঘন। মানবাধিকার সংস্থা গুলিও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং সরকারকে দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।
কিশোরগঞ্জে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজন বন্দির পিতা, যিনি নিজের স্বামী ও শিশুর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চেয়েছিলেন, পারোলার আবেদন করা সত্ত্বেও অনুমোদন পাননি। আদালতে আবেদন দাখিলের পরেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, ফলে পিতাকে তার পরিবারের শোকের সময়ে কারাগারে থাকতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনা স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
দুইটি মামলায় পারোলার অননুমোদন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলো সরকারকে কঠোর সমালোচনা করে। তারা দাবি করে, রাষ্ট্রের মানবিক প্রতিশ্রুতি শুধুমাত্র কাগজে লেখা নয়, বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা দরকার। সরকার পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সমাধান প্রকাশিত হয়নি, যদিও মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবীরা আদালতে রায়ের পুনর্বিবেচনা ও সংশ্লিষ্ট নীতি সংশোধনের দাবি জানাচ্ছেন।
এই ধরনের পারোলার প্রত্যাখ্যানের ফলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বন্দিদের শোকের সময়ে পরিবারিক সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের প্রতি আস্থার ক্ষয় ঘটাতে পারে। opposition parties may use these incidents to question the ruling party’s commitment to human rights, potentially influencing upcoming parliamentary debates. আদালতে আবেদন দাখিলের পাশাপাশি, মানবাধিকার গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে অভিযোগ তুলে দেশের মানবাধিকার রেকর্ডের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
অবশেষে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল আইনগত অধিকারকে বাস্তবে রূপদান করা এবং বন্দিদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করা। পারোলার নীতি সঠিকভাবে প্রয়োগ না হলে, তা শুধু ব্যক্তিগত কষ্টই নয়, দেশের আন্তর্জাতিক সুনামেও ক্ষতি করে। সরকার যদি দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও অনুরূপ বিরোধ ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।



