ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস অস্ট্রেলিয়ায় শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে কুঁচকির চোটে ভুগেছেন। সিরিজে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর সিডনিতে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি বল করতে পারেননি।
চোটটি কুঁচকির গাঁটের জায়গায় হয়েছে, ফলে স্টোকসকে পুরো ম্যাচে বোলার হিসেবে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়নি। তার অক্ষমতা টেস্টের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, কারণ তিনি দলের প্রধান স্পিনারদের একজন হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
সিরিজ জুড়ে স্টোকসের বোলিং রিদম ধারাবাহিক ছিল এবং তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওভারে সফলতা অর্জন করেন। তবে ব্যাটিংয়ে তিনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, যা ইংল্যান্ডের মোট স্কোরে বড় ঘাটতি তৈরি করেছে।
অ্যাশেজের পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠলেও স্টোকস লাল বলের ক্রিকেটে ক্যাপ্টেনশিপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দায়িত্ব বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) বর্তমানে স্টোকসের ক্যাপ্টেনশিপের পর্যালোচনা করছে, ফলে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্টোকসের অবস্থান অস্থির।
কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম স্টোকসের পারফরম্যান্সের কিছু সমালোচনাকে “অসংগত” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলছেন, স্টোকসের সামগ্রিক অবদানকে একক ঘটনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
সাদা বলের ফরম্যাটে স্টোকস নিয়মিত খেলেন না, তাই তিনি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন না। এই টুর্নামেন্টটি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্টোকসের অনুপস্থিতি স্পষ্ট।
স্টোকসের পরবর্তী টেস্ট ম্যাচটি ৪ জুন লর্ডসে নির্ধারিত, যেখানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি তার ৩৫তম জন্মদিনের দিনেই হবে, যা তার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
যদি শারীরিকভাবে সুস্থ হন, স্টোকসকে ডারহাম দলের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুর দিকে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময়ের পর আবার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারেন।
স্টোকসের শারীরিক সমস্যাগুলি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালে তিনি দুইবার হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েছিলেন, যা তার গতি ও ফিল্ডিংকে প্রভাবিত করেছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে তিনি হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর পুনরায় মাঠে ফিরে আসেন, তবে কাঁধের সমস্যার কারণে ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের সিরিজে অংশ নিতে পারেননি। এই সমস্যাগুলি তার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করেছে।
ইসিবির সঙ্গে স্টোকসের চুক্তি ২০২৭ পর্যন্ত চলবে, যা তাকে টেস্ট ক্রিকেটে পূর্ণ মনোযোগ দিতে সুযোগ দেয়। তিনি এই সময়কালে টেস্ট ফরম্যাটে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চান।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামের জন্য স্টোকস নিজেকে বাদ রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্টোকসের কুঁচকি চোটের ফলে ইংল্যান্ডের টেস্ট পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। দলের ব্যাটিং ও বোলিং ব্যালেন্স বজায় রাখতে বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বাড়াতে হবে।
ইসিবি এখন স্টোকসের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি তার নেতৃত্বের গুণাবলী মূল্যায়ন করছে। ভবিষ্যতে তিনি ক্যাপ্টেনশিপে ফিরে আসতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করবে তার পুনরুদ্ধার ও পারফরম্যান্সের ওপর।
স্টোকসের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বর্তমানে মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে চলছে। তিনি শারীরিক থেরাপি ও পুনর্বাসন সেশনের মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হতে চেষ্টা করছেন।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যান্য সদস্যরা স্টোকসের অনুপস্থিতিতে নিজেদের ভূমিকা বাড়াতে প্রস্তুত। বিশেষ করে স্পিনার ও মিড-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দলকে সমর্থন করার দায়িত্বে রয়েছে।
স্টোকসের ক্যাপ্টেনশিপের সময়কালে দলটি বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য জয় অর্জন করেছে, যা তার নেতৃত্বের মূল্যকে তুলে ধরে। তবে সাম্প্রতিক ব্যাটিং দুর্বলতা দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
ইসিবি স্টোকসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় জোর দিচ্ছে, যাতে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়। তার চুক্তি শেষ হওয়ার আগে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
স্টোকসের পুনরায় মাঠে ফিরে আসা ইংল্যান্ডের টেস্ট রোস্টারে স্থিতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার বহুমুখী দক্ষতা দলকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সমর্থন করতে সক্ষম।
যদি স্টোকস ৪ জুনের লর্ডস টেস্টে অংশ নিতে পারেন, তবে তার জন্মদিনের দিনেই তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন। এই সুযোগটি তার জন্য উভয়ই ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে বিশেষ।
ডারহামের সঙ্গে সম্ভাব্য কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের অংশগ্রহণ স্টোকসকে শারীরিকভাবে পুনরায় গতি পেতে সহায়তা করবে। তিনি এই সময়ে ফর্ম পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
স্টোকসের শারীরিক সমস্যাগুলি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে তার চুক্তি এবং টেস্টের প্রতি অঙ্গীকার তাকে দৃঢ় রাখে।
ইসিবি স্টোকসের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। এটি দলের কৌশলগত পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্টোকসের কুঁচকি চোটের পরবর্তী পর্যায়ে তার পারফরম্যান্স কীভাবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণ তাকে পুনরায় মাঠে ফিরিয়ে আনতে পারে।
ইংল্যান্ডের টেস্ট শিডিউল এখনো বেশ ব্যস্ত, এবং স্টোকসের উপস্থিতি দলকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সমর্থন দিতে পারে। তার ফিরে আসা দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করবে।
সারসংক্ষেপে, বেন স্টোকসের কুঁচকি চোট তার টেস্ট ক্যারিয়ারকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, তবে তার চুক্তি, নেতৃত্বের ইচ্ছা এবং পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



