লস এঞ্জেলেসের লন্ডন ওয়েস্ট হলিউড হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘অওয়ার্ডস চ্যাটার’ পডকাস্টে ৮০ বছর বয়সী জ্যাক ফিস্ক উপস্থিত হয়ে তার চলচ্চিত্র নির্মাণের দীর্ঘ যাত্রা ও ‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবির জন্য অস্কার নোমিনেশন নিয়ে আলোচনা করেন।
ফিস্ক মূলত চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর হিসেবে শুরু করেন, তবে ১৯৭০ সালে ভার্জিনিয়া থেকে হলিউডে স্থানান্তরিত হন উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্ধু ডেভিড লিঞ্চের সঙ্গে, যেখানে প্রথমে বিলবোর্ড আঁকার স্বপ্ন ছিল।
হলিউডে প্রবেশের পর লিঞ্চের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে তিনি ‘বেডল্যান্ডস’ (১৯৭৩) ও ‘ক্যারি’ (১৯৭৬) ছবির দৃশ্য নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা তাকে শিল্পের শীর্ষে নিয়ে যায়।
‘ক্যারি’ ছবির শুটিংয়ের সময়ই তিনি সিসি স্পেসকে সঙ্গে পরিচিত হন; দুজনের প্রেমের গল্প ১৯৭৪ সালে বিবাহে পরিণত হয় এবং স্পেসকে ‘ক্যারি’র সর্বাধিক স্মরণীয় দৃশ্যটি সম্পন্ন করতে ফিস্কের সহায়তা ছিল।
সেই পর থেকে ফিস্কের নাম যুক্ত হয়েছে বহু প্রশংসিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে; ১৯৭৮ সালের ‘ডেজ অফ হেভেন’, ১৯৯৮ সালের ‘দ্য থিন রেড লাইন’, ২০০১ সালের ‘মুলহল্যান্ড ড্রাইভ’, ২০০৭ সালের ‘দেয়ার উইল বি ব্লাড’, ২০১২ সালের ‘দ্য মাস্টার’, ২০১৫ সালের ‘দ্য রেভেন্যান্ট’, ২০২৩ সালের ‘কিলারস অফ দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ এবং ২০২৫ সালের ‘মার্টি সুপ্রিম’ ইত্যাদি।
এই ছবিগুলোর মধ্যে তিনি টেরেন্স মালিকের সঙ্গে আটবার, ব্রায়ান ডি পামোর সঙ্গে দুবার, লিঞ্চের সঙ্গে দুবার, পল থমাস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে দুবার, আলেজান্দ্রো গনজালেজ ইনারিতু এবং মার্টিন স্কোরসেসের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন।
ফিস্কের কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিউ ইয়র্কের মিউজিয়াম অফ দ্য মুভিং ইমেজে ২০১৬ সালে এবং ২০২৪ সালে আমেরিকান সিনেমাথেকে এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত হয়; জানুয়ারিতে আমেরিকান সিনেমাথেকের ‘ট্রিবিউট টু দ্য ক্রাফটস’ অনুষ্ঠানে তাকে ক্যারিয়ার অর্জন পুরস্কারও প্রদান করা হয়।
১৯৮০-এর দশকে ‘হার্ট বিট’ ছবির পর তিনি প্রোডাকশন ডিজাইনের কাজ থেকে প্রায় আঠারো বছর বিরতি নেন; ১৯৯৮ সালে ‘দ্য থিন রেড লাইন’ দিয়ে তিনি আবারই বড় পর্দায় ফিরে আসেন।
‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবিতে টিমোথি শালামেটের সঙ্গে কাজের জন্য ফিস্ক চতুর্থবার অস্কার নোমিনেশন পেয়েছেন এবং প্রথমবারের মতো জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পডকাস্টে তিনি হলিউডে আসার প্রাথমিক লক্ষ্য, বিলবোর্ড চিত্রাঙ্কনের স্বপ্ন থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের জগতে নিজেকে গড়ে তোলার গল্প শেয়ার করেন, পাশাপাশি শিল্পী হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের নীতি তুলে ধরেন।
ফিস্ক উল্লেখ করেন যে প্রতিটি পরিচালক তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের পদ্ধতি নিয়ে আসেন; মালিকের প্রকৃতিবাদী দৃষ্টিকোণ, ডি পামোর থ্রিলার শৈলী, লিঞ্চের অদ্ভুত কল্পনা, অ্যান্ডারসনের বর্ণনামূলক গভীরতা, ইনারিতুর মানবিকতা এবং স্কোরসেসের নাট্যিক তীব্রতা—এগুলো সবই তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রোডাকশন ডিজাইনারের কাজ কেবল সেট গড়া নয়, বরং গল্পের মনের অবস্থা ও চরিত্রের অনুভূতি দৃশ্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা। এই দৃষ্টিকোণই তাকে ‘কিলারস অফ দ্য ফ্লাওয়ার মুন’ ও ‘মার্টি সুপ্রিম’ ছবিতে অনন্য পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম করেছে।
ফিস্কের ক্যারিয়ারকে সংক্ষেপে বলা যায়, তিনি সাত দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রের জগতে দৃশ্য নির্মাণের শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং এখনো নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করে তার সৃজনশীলতা প্রসারিত করছেন। ভবিষ্যতে তিনি আরও চ্যালেঞ্জিং প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা তার দীর্ঘায়ু ও উদ্যমকে আরও প্রমাণ করবে।



