গতকাল ভদোদরায় অনুষ্ঠিত উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) দ্বিতীয় শিরোপা অর্জন করে। চূড়ান্ত ম্যাচে দলটির শীর্ষ ব্যাটসম্যান স্মৃতি মন্ধানা ৪১ ball-এ ৮৭ রান করে, যা ফাইনালের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর এবং ২৩ ball-এ অর্জিত অর্ধশতক দ্রুততম অর্ধশতক হিসেবে রেকর্ড হয়।
মন্ধানা এবং জর্জিয়া ভল্লের যৌথ ১৬৫ রানের অংশীদারিত্ব RCB-কে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। দ্বিতীয় উইকেট পর্যন্ত তারা মাত্র ৯২ ডেলিভারিতে ১৬৫ রান যোগায়, যা চূড়ান্ত রানের প্রবাহকে নির্ধারিত করে।
শক্তিশালী পাওয়ারপ্লে শেষে RCB ৫৯/১ স্কোরে পৌঁছায়, যেখানে ভল্লে ৩৬ ডেলিভারির মধ্যে ২১ ball মুখোমুখি হয়ে ৩০ রান সংগ্রহ করে। তার আক্রমণাত্মক স্বরূপ এবং ধারাবাহিক শট নির্বাচন দলকে দ্রুত রানের গতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
মন্ধানা ম্যাচের আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন যে ভল্লের শেষের ম্যাচে বড় পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি কয়েক দিন আগে বলেছিলাম যে ভল্লে ম্যাচ-জয়ী ইনিংস খেলবে, এবং তার কঠোর প্রশিক্ষণ ফলপ্রসূ হয়েছে।”
মন্ধানার নিজের পারফরম্যান্সও নজরকাড়া ছিল। ৪১ ball-এ ৮৭ রান করে তিনি ২৩ ball-এ অর্ধশতক অর্জন করেন, যা WPL ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতক হিসেবে স্বীকৃত। তার আক্রমণাত্মক স্টাইল এবং শটের বৈচিত্র্য RCB-কে দ্রুত স্কোর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মন্ধানা টুর্নামেন্টের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে ১০০০ রনের বেশি স্কোর করা পাঁচজন খেলোয়াড়ের তালিকায় যোগ দেন। তার ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ স্কোরের ক্ষমতা দলকে শিরোপা জয়ের পথে দৃঢ় করে।
প্রতিপক্ষ দল দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) প্রথম ইনিংসে ২০৩/৪ স্কোর করে, যেখানে চিনেল হেনরি ১৫ ball-এ ৩৫ রান যোগিয়ে ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করে। উচ্চ স্কোরের পরেও RCB তার শিকড় বজায় রাখে এবং চৌকসভাবে চেজ করে।
RCB কোচিং স্টাফের মতে, পিচটি ব্যাটিংয়ের জন্য উপযুক্ত ছিল, যা উভয় দলকে দ্রুত রানের সুযোগ দেয়। তবে RCB-এর ব্যাটসম্যানরা শুরুর পর্যায়ে সঠিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে তারা শীঘ্রই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।
বোলিং দিক থেকে, লরেন বেল রেকর্ড করেন ০-১৯ রানে, যার মধ্যে ১২টি ডট বল এবং মাত্র দুইটি চার থাকে। তার সুনির্দিষ্ট লাইন এবং দৈর্ঘ্য RCBকে শিথিল না হতে সাহায্য করে, যদিও প্রতিপক্ষের স্কোর উচ্চ ছিল।
মন্ধানা বেলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, “বেল ১৯ রানে মাত্র দুইটি চার দিয়ে শূন্য উইকেট নেয়া সত্ত্বেও এতটা নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।” তার মন্তব্য দলীয় ঐক্যের প্রতিফলন ঘটায়।
সামগ্রিকভাবে, RCB শক্তিশালী ব্যাটিং, দৃঢ় অংশীদারিত্ব এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ের সমন্বয়ে DC-কে পরাজিত করে দ্বিতীয় শিরোপা অর্জন করে। এই জয় দলকে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রাখবে।



