রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) নারী প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ এর চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে, দলটি তিন সিজনে দ্বিতীয় ট্রফি অর্জন করে। চূড়ান্ত ম্যাচে ছয় উইকেটের পার্থক্য এবং দুই বলের বাকি সময়ে শিরোপা তুলে নেয়া দলটির পারফরম্যান্সকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
সিজনের শেষের দিকে সরাসরি ফাইনালে স্থান নিশ্চিত করার পর দলটি এক সপ্তাহের বিশ্রাম নেয়। এই বিরতি দলকে গোয়ায় বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ মিশ্রিত করে পুনরুজ্জীবিত করে, যা ফাইনাল ম্যাচে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
চূড়ান্ত গেমে ক্যাপ্টেন স্মৃতি মান্ধনা ৪১ বলে ৮৭ রান গড়ে তুলেছেন, যা দলের মোট স্কোরের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। তার পাশে জর্জিয়া ভল ৫৪ বলে ৭৯ রান করে রক্তবাহিত আক্রমণকে সমর্থন করেন, ফলে RCB ছয় উইকেটের পার্থক্য এবং দুই বলের বাকি সময়ে শিরোপা নিশ্চিত করে।
স্মৃতি মান্ধনার আক্রমণাত্মক শটগুলোকে বিশ্লেষকরা ‘সবচেয়ে পরিষ্কার হিটার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এখানে আমরা কেবল তার ৪১ বলে ৮৭ রানের বাস্তব পারফরম্যান্স তুলে ধরছি। তার আড়ম্বরপূর্ণ স্টাইল এবং দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা দলকে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
জর্জিয়া ভল ৫৪ বলে ৭৯ রান করে মিডল অর্ডারকে শক্তিশালী করেন, তার আক্রমণাত্মক পদ্ধতি রানের প্রবাহকে ত্বরান্বিত করে। তার শট নির্বাচন এবং রানের গতি দলকে দ্রুত স্কোর বাড়াতে সাহায্য করে, যা শেষের ওভারগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শ্রেয়াঙ্কা পাটিলের ৪১ বলে ৪৭ রানও উল্লেখযোগ্য ছিল; যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত বেশি স্কোর করতে পারেননি, তবে তার পারফরম্যান্স দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করে। তিনি উল্লেখ করেন যে সিজনের বেশিরভাগ সময় স্কোয়ারে শট মারতে সমস্যার মুখোমুখি ছিলেন, তবে ফাইনালে তার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।
বিরতির সময় দলটি গোয়ায় সমুদ্রতটে বিশ্রাম নেয়, কয়েকটি সোডা ওয়াটার পান করে মনোভাবকে সতেজ করে। প্রশিক্ষণ সেশনের সঙ্গে সামান্য বিশ্রাম মিশ্রিত করে তারা পুনরায় ফোকাস অর্জন করে, যা ফাইনালের প্রস্তুতিতে সহায়ক হয়।
শ্রেয়াঙ্কা পাটিলের মতে, পিচটি ব্যাটিংয়ের জন্য উপযোগী ছিল, তাই যতটা সম্ভব সোজা খেলা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি দলের ফিনিশারদের দক্ষতা উল্লেখ করে বলেন, যদি দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে খেলতে পারা যায় তবে ম্যাচের ফলাফল সহজে নিশ্চিত করা যায়। যদিও শেষ মুহূর্তে পুরো দল একসাথে জয় অর্জন করতে পারেনি, তবে তিনি দলের প্রচেষ্টা ও সিজনের সাফল্যকে প্রশংসা করেন।
দলটি পুরো সিজনে কঠোর পরিশ্রম এবং পারস্পরিক সমর্থনের মাধ্যমে এই শিরোপা অর্জন করেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সমন্বয়কে তিনি ‘মনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এই জয় RCB-কে ভবিষ্যৎ সিজনে আরও উচ্চতর লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে। দলটি এখন পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু করেছে, যেখানে একই উদ্যম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।



