পাকিস্তান সরকার ট২০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে ভারত এ দলের সঙ্গে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাঁচ দিন পরেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা প্রকাশিত হয়নি। তবে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিছু অপ্রকাশিত আলোচনার সূত্র প্রকাশে পরিস্থিতি শিথিলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ উল্লেখ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) উভয়ই ম্যাচটি বাতিলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে।
বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ম্যাচটি যদি না খেলা হয়, তবে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও টিকিট বিক্রিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণে উভয় সংস্থা দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
গতকাল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ICC এবং PCB-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপনীয় চ্যানেল দিয়ে আলোচনা চালু হয়েছে। এই চ্যানেলগুলোকে ‘ব্যাক-চ্যানেল পার্লে’ বলা হচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও শর্তাবলী নিয়ে সরাসরি কথা বলা হচ্ছে।
আলোচনার মূল বিষয়গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভ্রমণ অনুমতি এবং ভক্তদের নিরাপদ উপস্থিতি নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া উভয় দলের খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের ন্যায্যতা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের প্রধান কর্মকর্তারা এখনও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে অনিচ্ছুক, তবে তারা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে অগ্রসর হওয়ায় আশাবাদ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, উভয় সংস্থার মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।
এই সময়ে টুর্নামেন্টের অন্যান্য ম্যাচগুলো নির্ধারিত সময়ে চলতে থাকবে, এবং ভক্তদের জন্য টিকিটের রিফান্ড বা পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতি স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে ভারত এ ও পাকিস্তানের মধ্যে ম্যাচ না হলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক আকর্ষণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডের সময়সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের দলগুলোও অংশগ্রহণ করবে। এই ম্যাচগুলোতে দর্শকসংখ্যা ও টিভি রেটিং উচ্চ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদি ব্যাক-চ্যানেল আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতা হয়, তবে তা টুর্নামেন্টের শেডিউল পুনর্গঠন ও ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, যদি সমঝোতা না হয়, তবে ICCকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেমন ম্যাচটি বাতিল করা বা অন্য কোনো দলকে প্রতিস্থাপন করা।
পাকিস্তান ও ভারত এ উভয় দেশের ক্রিকেট প্রেমিকরা এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে উভয় দিকের ভক্তদের মন্তব্যে আশাবাদী সুর দেখা যায়, যদিও কিছু অংশে হতাশাও প্রকাশ পেয়েছে।
পরবর্তী কয়েক দিনেই ICC ও PCB থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উভয় সংস্থার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, তারা সব প্রাসঙ্গিক দিক বিবেচনা করে সর্বোত্তম সমাধান বের করার চেষ্টা করবে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ফলাফল টিকে থাকবে না শুধুমাত্র টুর্নামেন্টের সাফল্যের জন্য, বরং ভবিষ্যতে দু’দেশের ক্রীড়া সহযোগিতার জন্যও দিকনির্দেশক হবে।



