ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে সিলেট জেলার ছয়টি পার্লামেন্টারি আসনের মধ্যে চারটি আসনকে বিএনপি নেতাকর্মীরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে গণ্য করছেন। তারা জানান, একটিতে জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কারণ ঐ আসনে জামায়াতের জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে।
২০০১ সালে সিলেট‑৫ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির নেতা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচিত হন, যদিও সেই সময় তিনি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিলেন। একই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মামুনুর রশিদ শক্ত অবস্থানে আছেন; তার সমর্থকরা ইতিমধ্যে দল থেকে নয়জন নেতাকে বহিষ্কার করেছেন।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির উভয় নেতাই দাবি করছেন যে তারা সব ছয়টি আসনে জয়ের জন্য লড়াই করবে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় বেশ কিছু আসনে নীরব ভোটের পরিমাণ বেশি হতে পারে, যা ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর জয়-পরাজয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করছে।
মাঠে বর্তমানে বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির কর্মী-সমর্থক এবং তাদের নেতা-কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। উভয় দলের প্রার্থীরা ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে জনসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বিএনপির ‘বঞ্চিতরা’ নামে পরিচিত কিছু প্রার্থী সাময়িকভাবে নীরব থাকলেও, কিছুজন এখনো দলীয় প্রার্থীরূপে প্রচারে নামেছেন, আবার কিছুজন সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। জামায়াত-এ-ইসলামির জোটে আসন ভাগাভাগি হওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা প্রার্থীর নির্বাচন নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছেন।
সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় মোট ১৯টি পার্লামেন্টারি আসন রয়েছে, যার মধ্যে সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট‑১ আসনকে সবসময়ই ‘মর্যাদার’ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সিলেট‑১ আসনে যে দল প্রার্থীকে জয়ী করে, সেই দলই সরকার গঠন করেছে – এই ধারাটি এখন একধরনের মিথে পরিণত হয়েছে।
এই আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইটি হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকী প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াত-এ-ইসলামির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকী হাবিবুর রহমানের মধ্যে। খন্দকার মুক্তাদিরকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে চেনা যায়; তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে প্রচার চালিয়ে আসছেন। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান, যিনি ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক পটভূমি দুটোই রাখেন, তিনি এই নির্বাচনী লড়াইয়ের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পিতার নাম খন্দকার আবদুল মালিক, যিনি সিলেটের বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট‑৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯১ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় জয়লাভ করেন। তার রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং পারিবারিক পরিচয় খন্দকার মুক্তাদিরের প্রার্থী অবস্থানকে শক্তিশালী করে তুলেছে।
সিলেটের এই ছয়টি আসনে চলমান নির্বাচনী প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমতা ও সরকার গঠনের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।



