17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানদুই মাসের শিশুরা দৃশ্য ও সুরের শ্রেণিবিন্যাসে প্রাপ্তবয়স্কের মতোই সক্রিয়

দুই মাসের শিশুরা দৃশ্য ও সুরের শ্রেণিবিন্যাসে প্রাপ্তবয়স্কের মতোই সক্রিয়

দুই মাস বয়সী নবজাতক শিশুরা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই দৃশ্যগত বস্তুকে শ্রেণিবদ্ধ করতে এবং সুরের তাল অনুসরণ করতে সক্ষম, এমন ফলাফল দুইটি সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশমান স্নায়ুবিজ্ঞানী ও ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের দল পরিচালনা করেছে এবং ফলাফল ফেব্রুয়ারি ২ তারিখে নেচার নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম গবেষণায় ১০০টিরও বেশি জাগ্রত দুই মাসের শিশুকে কার্যকরী চৌম্বকীয় অনুপ্রেরণ (fMRI) স্ক্যানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। fMRI স্ক্যানের জন্য বিষয়ের অচঞ্চলতা প্রয়োজন, যা নবজাতকের ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জ। স্ক্যানের সময় শিশুর মাথার উপরে প্রাণী, খাবার, গৃহস্থালী জিনিসপত্র ইত্যাদির ছবি প্রজেক্ট করা হয়, যেন ছোট্ট শিশুর জন্য একটি ইম্যাক্স থিয়েটার তৈরি করা হয়েছে।

স্ক্যানের ফলাফল দেখায় যে শিশুর ভেন্ট্রাল ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স, যা দৃশ্যমান তথ্যের স্বীকৃতির জন্য দায়ী, প্রাপ্তবয়স্কের মতোই বিভিন্ন বস্তু শ্রেণির জন্য স্বতন্ত্র সক্রিয়তা প্রদর্শন করে। অর্থাৎ, শিশুর মস্তিষ্ক ইতিমধ্যে জন্মের পরই দৃশ্যগত ক্যাটেগরি পার্থক্য করতে পারে, যা পূর্বের ধারণা যে এই ক্ষমতা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তার বিপরীত প্রমাণ করে।

দ্বিতীয় গবেষণায় একই বয়সের শিশুরা সুরের তালের প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পরীক্ষা করা হয়েছে। শিশুর মাথায় ছোট ইলেকট্রোড বসিয়ে রিদমিক সাউন্ডের ধারাবাহিকতা শোনানো হলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অঞ্চলে সক্রিয়তা দেখা যায়। ফলাফল নির্দেশ করে যে শিশুরা সুরের বিটকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্ত করে এবং তা অনুসরণ করতে পারে, যদিও তারা এখনও শব্দের অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা করতে পারে না।

এই দুই গবেষণার সমন্বয় দেখায় যে মানব মস্তিষ্কের কিছু মৌলিক ক্ষমতা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় থাকে। ভিজ্যুয়াল ক্যাটেগরি পার্থক্য এবং রিদমিক সাউন্ডের সনাক্তকরণ উভয়ই জ্ঞানীয় বিকাশের প্রাথমিক স্তরে উপস্থিত, যা পূর্বের শতাব্দীর ধারণা যে শিশুর মস্তিষ্ক ‘ব্লুমিং, বাজিং কনফিউশন’ ছিল, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে fMRI স্ক্যানের সময় শিশুর অচঞ্চলতা বজায় রাখতে বিশেষ ধৈর্য ও প্রযুক্তিগত সমর্থন প্রয়োজন। শিশুরা নির্দেশ অনুসরণ করতে পারে না, তাই স্ক্যানের সময় তাদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস ও নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে প্রাপ্ত ফলাফল ভবিষ্যতে শৈশবের মস্তিষ্ক বিকাশের নকশা ও প্রাথমিক হস্তক্ষেপের পদ্ধতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে, এই ফলাফলগুলো মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল ও অডিটরি সিস্টেমের প্রাথমিক সংহতি নির্দেশ করে, যা ভাষা ও সামাজিক যোগাযোগের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। যদিও গবেষণায় শুধুমাত্র দুই মাসের শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে বিভিন্ন বয়সের শিশুদের উপর সমজাতীয় গবেষণা চালিয়ে মস্তিষ্কের বিকাশের ধাপগুলো আরও স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।

অবশেষে, এই গবেষণাগুলো আমাদের জানায় যে শিশুরা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই জটিল স্নায়ু কাঠামো ব্যবহার করে পৃথিবীকে শ্রেণিবদ্ধ ও রিদমিক সাউন্ডের সাথে সামঞ্জস্য করে। এই জ্ঞানীয় সক্ষমতা কীভাবে পরবর্তীতে ভাষা, শিক্ষা ও সামাজিক দক্ষতায় রূপান্তরিত হয়, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। আপনার সন্তান যদি এখনো ছোট হয়, তবে দৈনন্দিন জীবনে রঙিন ছবি ও সুরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশকে সমর্থন করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments