চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) গত বৃহস্পতিবার একটি গোপনীয় চিঠির মাধ্যমে ১৫ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিদেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের চলমান ও অচল সম্পদের ওপর তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই কর্মচারীরা সাম্প্রতিক বন্দর প্রতিবাদে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত।
চিঠিতে উল্লেখিত প্রধান দাবি হল, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে বন্দর কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। ফলে, CPA সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছে যে, এই কর্মচারীরা দেশের বাইরে কোনো ভ্রমণ না করতে পারে এবং তাদের সম্পদে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন থাকলে তা তদন্ত করা হোক।
দুর্নীতি দমন কমিশনকে এই কর্মচারীদের সম্পদ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি আরোপ করা হবে।
চিঠিটি CPA সেক্রেটারি সৈয়দ রেফায়েত হামিমের স্বাক্ষরে গৃহীত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেরিত হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এই কর্মচারীদের মংলা ও পায়রা বন্দরগুলোতে ডেপুটি হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
স্থানান্তরের মধ্যে দুইজন সমন্বয়ক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোঃ হুমায়ুন কবির, যিনি অভ্যন্তরীণ অডিট ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী, এবং মোঃ ইব্রাহিম খোকন, যিনি মেরিন বিভাগের প্রথম শ্রেণীর ইঞ্জিন চালক, উভয়কে গত সপ্তাহে দু’বার স্থানান্তর করা হয়েছে। এই দুইজনকে পাশাপাশি অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে ডেপুটি হিসেবে বিভিন্ন বন্দর স্থানে পাঠানো হয়েছে।
অন্যান্য নামকরা কর্মচারীদের মধ্যে মোঃ ফারিদুর রহমান, মোহাম্মদ শাফি উদ্দিন, রশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মোঃ জাহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মোঃ শাকিল রায়হান, মানিক মিজি, মোঃ শামসু মিয়া, মোঃ লিয়াকত আলী, আমিনুর রাসুল বুলবুল এবং মোঃ রাব্বানি অন্তর্ভুক্ত। এরা সকলেই CPA-র বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত এবং একই অভিযোগে অভিযুক্ত।
চিঠিটি শিপিং মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারির কাছে পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি শিপিং উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের অফিসে কপি প্রেরণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বিষয়টি জানানো এবং সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।
CPA সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, ফোন কল ও টেক্সট মেসেজের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে, এই মুহূর্তে সেক্রেটারির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বন্দর কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অশান্তি রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। তবে, চিঠিতে উল্লেখিত তদন্তের ফলাফল এবং সম্পদ অনুসন্ধানের ফলাফল কীভাবে শাস্তি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে তা এখনও অজানা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, বন্দর কর্মীদের ওপর এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার সূচনা হতে পারে। একই সঙ্গে, শ্রমিক সংগঠন ও বন্দর কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠীগুলি এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত কঠোর বলে সমালোচনা করতে পারে।
অবশেষে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এই চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপগুলি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক সম্পর্কের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, তদন্তের ফলাফল এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সিদ্ধান্তই মূল বিষয় হয়ে থাকবে।



