অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস (AMPAS) নতুনভাবে “অ্যাকাডেমি স্টুডিওস” গঠন করে ডিজিটাল কন্টেন্টের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জেনিফার ডেভিডসনের হাতে অর্পণ করেছে। এই পদক্ষেপটি ইউটিউবের সঙ্গে ২০২৯ সালে ওস্কার স্ট্রিমিং চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই নেওয়া হয়েছে, যা অ্যাকাডেমির ডিজিটাল উপস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অ্যাকাডেমি স্টুডিওসের মূল কাজ হবে ইন্টারভিউ, ভিডিও, লাইভস্ট্রিম, পডকাস্ট ইত্যাদি ডিজিটাল উদ্যোগগুলোকে একত্রিত করে একসঙ্গে পরিচালনা করা। এই উদ্যোগগুলোকে অ্যাকাডেমির মিশন, কণ্ঠস্বর এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউটিউবের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী ২০২৯ সালে ওস্কার অনুষ্ঠান সরাসরি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপিত হবে, যা চলচ্চিত্র শিল্পের বৃহত্তর অনলাইন দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই চুক্তি অ্যাকাডেমির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল কৌশলের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
জেনিফার ডেভিডসন ২০১৯ সালে অ্যাকাডেমিতে যোগাযোগ পরামর্শদাতা হিসেবে যোগ দেন। ২০২০ সালে তিনি কর্পোরেট কমিউনিকেশনের ইভি.পি. পদে উন্নীত হন, এরপর ২০২১ সালে চিফ কমিউনিকেশনস অফিসার এবং ২০২৪ সালে চিফ মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার ক্যারিয়ার অগ্রগতি অ্যাকাডেমির অভ্যন্তরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪ সালে ডেভিডসনের নতুন পদবী “চিফ মার্কেটিং, কমিউনিকেশনস এবং কন্টেন্ট অফিসার”। এই ভূমিকায় তিনি মার্কেটিং, দর্শক উন্নয়ন, ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া, এবং সব শাখার জন্য সৃজনশীল ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি তত্ত্বাবধান করবেন। ওস্কার অনুষ্ঠানও তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যা গত বছর পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং অর্জন করেছে।
অ্যাকাডেমি স্টুডিওসের অধীনে একটি প্রোডাকশন টিম গঠন করা হবে, যা ডিজিটাল কন্টেন্টের গুণগত মান বাড়াবে এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজকে বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করবে। এছাড়া অ্যাকাডেমি মিউজিয়াম ও অ্যাকাডেমি কালেক্টের চমৎকার কাজগুলোকে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যাকাডেমি সিইও বিল ক্র্যামার ডেভিডসনের নেতৃত্বে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি অ্যাকাডেমির জন্য একটি গতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসছেন। ক্র্যামার উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য এই নতুন পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেভিডসনের নেতৃত্বে অ্যাকাডেমি স্টুডিওসের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও দৃশ্যমান করা হবে। এটি শুধুমাত্র ওস্কার অনুষ্ঠান নয়, বরং সব ধরণের চলচ্চিত্র সম্পর্কিত কন্টেন্টকে অনলাইন দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বিস্তৃত কৌশল।
অ্যাকাডেমি স্টুডিওসের সূচনা অ্যাকাডেমিকে ডিজিটাল যুগে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে, যেখানে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা সহজে অ্যাকাডেমির বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিতে পারবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অ্যাকাডেমি তার ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।



