যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য সংস্থা সিএআইএ (Central Intelligence Agency) সম্প্রতি একটি নোটিশের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত হয়ে আসা “World Factbook” আর প্রকাশ করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণায় কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সিএআইএর সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই ও বাজেট সংকোচনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হতে পারে।
World Factbook মূলত ১৯৬২ সালে “National Basic Intelligence Factbook” শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়। সেই সময়ে এটি গোপনীয় নথি হিসেবে রক্ষিত ছিল এবং শুধুমাত্র সরকারী সংস্থাগুলোর জন্যই উপলব্ধ ছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য সরকারি বিভাগগুলোর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৭১ সালে একটি অগোপন সংস্করণ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত হয়।
১৯৭১ থেকে অগোপন সংস্করণটি আন্তর্জাতিক গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করে। ১৯৯৭ সালে সিএআইএ এই রেফারেন্স গাইডকে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ডিজিটাল রূপে উপলব্ধ করে, ফলে ব্যবহারকারীরা অনলাইনে সহজে দেশ-প্রতিদেশের ভূগোল, জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কিত তথ্য পেতে পারত।
সিএআইএর সর্বশেষ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, World Factbook আর প্রকাশ করা হবে না, তবে বিদ্যমান ডেটা ও আর্কাইভের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি। এই নোটিশে কেন সেবা বন্ধ করা হচ্ছে তা স্পষ্ট করা হয়নি, ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মশক্তিতে ব্যাপক ছাঁটাই ও চাকরি হ্রাসের ফলে সিএআইএর কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এই কাঠামোগত পরিবর্তনটি সরকারি সংস্থার বিভিন্ন পাবলিক সেবা ও টুলের অগ্রাধিকারে প্রভাব ফেলতে পারে, যা World Factbook বন্ধের পেছনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
World Factbook বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক গবেষণা, শিক্ষামূলক প্রকল্প এবং নীতি বিশ্লেষণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর বন্ধ হওয়া তথ্যপ্রাপ্তি ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি ফাঁক তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে সেইসব ব্যবহারকারী যারা এই গাইডের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
তবে, সিএআইএর এই সিদ্ধান্তের পরেও অন্যান্য সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমজাতীয় তথ্য সরবরাহ করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন ডেটাবেসে দেশ-প্রতিদেশের মৌলিক তথ্য পাওয়া যায়, যা ব্যবহারকারীরা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
সিএআইএ এখনো World Factbook-এর আর্কাইভ কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে বা কোনো বিকল্প সেবা চালু হবে কিনা তা স্পষ্ট করে না। ভবিষ্যতে যদি কোনো নতুন পাবলিক রিসোর্স প্রকাশ করা হয়, তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে আলাদা ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।



