17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসির কীয়ার স্টার্মার জেফ্রি এপস্টেইন শিকারদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন

সির কীয়ার স্টার্মার জেফ্রি এপস্টেইন শিকারদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সির কীয়ার স্টার্মার একটি পরিকল্পিত ভাষণে জেফ্রি এপস্টেইন শিকারদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে লর্ড ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই ক্ষমা প্রস্তাবটি সরকারের এপস্টেইন‑সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশের বিষয়েও বিতর্কের মাঝখানে প্রকাশিত হয়েছে।

স্টার্মার উল্লেখ করেন যে লর্ড ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনকে জানতেন তা জনসাধারণের কাছে আগে থেকেই প্রকাশিত ছিল, তবে সম্পর্কের গভীরতা ও অন্ধকার দিকগুলো সম্পর্কে কেউ জানত না। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কেউই সেই সম্পর্কের অন্ধকার দিকগুলো জানত না”। এই স্বীকারোক্তি সরকারকে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

কনসারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনচ স্টার্মারের অবস্থানকে “অসহ্য” বলে সমালোচনা করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলও শ্রম দলের (শ্রম দল) সমর্থন যাচাইয়ের জন্য একটি আত্মবিশ্বাস ভোটের দাবি জানিয়েছে। এদিকে, শ্রম দলের কিছু সদস্যই প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছেন।

কিছু ব্যাকবেঞ্চার পাবলিকভাবে স্টার্মারের নীতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন, আর অধিকাংশই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ শ্রম দলের ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সরকারী নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

লর্ড ম্যান্ডেলসনের দূত নিয়োগের সমালোচনা মূলত তার দণ্ডিত হওয়ার পরেও এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক অব্যাহত থাকার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। স্টার্মার যখন স্বীকার করেন যে এই তথ্য তখনই জানা ছিল, তখনই বিরোধী দল ও মিডিয়া তীব্র সমালোচনা শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে সরকার এপস্টেইন সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিল, যা জনমতকে আরও রাগান্বিত করে। নথিপত্রের স্বচ্ছতা না থাকায় শাসনব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস কমে যায় এবং রাজনৈতিক চাপ বাড়ে।

বিরোধের পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে সংবেদনশীল নথিগুলো যা জাতীয় নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে, সেগুলো পার্লামেন্টের ইন্টেলিজেন্স ও সিকিউরিটি কমিটি (ISC)‑কে পাঠানো হবে, না যে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হবে। এই পদক্ষেপটি নথি প্রকাশের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে লক্ষ্য করে।

ISC একটি চিঠিতে জানায় যে কোন নথি গোপন রাখা হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে, এবং সেই সিদ্ধান্ত ক্যাবিনেট সেক্রেটারির হাতে থাকবে। এরপর কমিটি সেই নথি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় হলে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করবে। এই প্রক্রিয়া নথি প্রকাশের দায়িত্বকে স্পষ্ট করে এবং পার্লামেন্টের তদারকি শক্তিশালী করে।

স্টার্মার শিকারদের সরাসরি সম্বোধন করে বলেন, “আমি দুঃখিত, আপনার প্রতি করা অন্যায়ের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। ক্ষমা চাইছি যে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা আপনাকে ব্যর্থ করেছে, এবং ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা বিশ্বাস করে তাকে নিয়োগ দিয়েছি।” এই ক্ষমা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি শিকারদের কষ্ট স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে এই ঘটনা শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস ভোটের ফলাফল দলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ভোটে স্টার্মারকে সমর্থন না করা হয়, তবে তার নেতৃত্বের স্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, যদি তিনি সমর্থন পান, তবে সরকারকে নথি প্রকাশ এবং নীতি পুনর্বিবেচনা নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments