নাসা সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ক্রু-১২ ও আর্টেমিস‑২ মিশনের জন্য নির্বাচিত মহাকাশচারীরা ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এটি প্রথমবারের মতো, যখন আধুনিক মোবাইল ডিভাইসগুলোকে সরাসরি মহাকাশে পাঠানো হবে।
ক্রু-১২ মিশনটি আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) এ পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্টেমিস‑২ মিশন, যা মানবকে চাঁদের চারপাশে ঘুরিয়ে নিয়ে যাবে, তা মার্চ মাসে চালু হওয়ার জন্য পুনঃনির্ধারিত হয়েছে।
নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইসাকম্যানের মতে, এই পরিবর্তনটি দলকে পরিবার ও পৃথিবীর মানুষদের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত শেয়ার করার সুযোগ দেবে। তিনি টুইটারে উল্লেখ করেন যে, স্মার্টফোনের মাধ্যমে তোলা ছবি ও ভিডিওগুলোকে দ্রুত বিশ্বব্যাপী প্রচার করা সম্ভব হবে।
স্মার্টফোনের সর্বশেষ মডেল, যেমন আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস, এখন মহাকাশযানের ক্যাবিনে ব্যবহার করা যাবে। ফলে, মহাকাশচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চমানের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করতে পারবে, যা পূর্বের পুরনো ক্যামেরা সিস্টেমের তুলনায় বেশি স্বতঃস্ফূর্ত হবে।
পূর্বে আইএসএস মিশনে ব্যবহৃত ক্যামেরা ছিল দশকের পুরনো নিকন ডিএসএলআর ও গোপ্রো ডিভাইস। যদিও সেগুলো প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর ছিল, তবে স্মার্টফোনের বহুমুখিতা ও ব্যবহারিকতা তুলনায় কম ছিল। এখন নতুন ডিভাইসগুলো দিয়ে তোলা ছবিগুলো আরও রঙিন ও জীবন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাসা এই নীতি পরিবর্তনকে দ্রুত অনুমোদন করার জন্য প্রশংসা পেয়েছে। আইসাকম্যান উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়াগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে আধুনিক হার্ডওয়্যারকে সংক্ষিপ্ত সময়ে মান্য করা হয়েছে। এই দ্রুতগতি ভবিষ্যতে কক্ষপথ ও চাঁদে গবেষণার গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক হবে।
স্মার্টফোনের ব্যবহার শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য সীমাবদ্ধ নয়; মহাকাশচারীরা তা দিয়ে টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম মতো সামাজিক প্ল্যাটফর্মে রিয়েল-টাইম আপডেট দিতে পারেন। শূন্যমাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে এমন কন্টেন্ট তৈরি করা নতুন প্রজন্মের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
এদিকে, স্পেসএক্সের বেসরকারি মিশনে ইতিমধ্যে স্মার্টফোন অনুমোদিত হয়েছে। তাই, নাসার এই সিদ্ধান্তটি কোনো সম্পূর্ণ নতুন ধারণা নয়, বরং বেসরকারি ও সরকারি উভয় ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
নাসা কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন ডিভাইসগুলোকে মহাকাশে পাঠানোর আগে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছে। কোনো একক ত্রুটি পুরো মিশনকে বিপন্ন করতে পারে, তাই সব হার্ডওয়্যারকে উচ্চমানের মানদণ্ডে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে, ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশনগুলো আরও বেশি ডকুমেন্টেড হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা রিয়েল-টাইম ডেটা ও ভিজ্যুয়াল রেকর্ডের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
সারসংক্ষেপে, নাসা এখন স্মার্টফোনকে মহাকাশযানের সরঞ্জাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা ক্রু-১২ ও আর্টেমিস‑২ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এই উদ্যোগটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও মানবিক সংযোগকে একসাথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।



