১৯ অক্টোবর লুভ্র জাদুঘরে এক সংগঠিত চুরি ঘটেছে, যেখানে ফরাসি সম্রাজ্ঞী ইউজেনির মুকুটসহ মূল্যবান রত্নের মালিকানা ৮৮ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭৬ মিলিয়ন পাউন্ড, ১০৪ মিলিয়ন ডলার) চুরি করা হয়েছে। চোররা গ্যালেরি দ্য অ্যাপোলন (Galerie d’Apollon) এ প্রবেশের জন্য সাঁতার নদীর তীরের কাছের একটি ব্যালকনি থেকে একটি চুরি করা যান্ত্রিক লিফট ব্যবহার করে গ্লাসের কেসে কাটা করে ঢুকে যায়।
মুকুটটি চোরদের পালানোর সময় দুর্ঘটনাক্রমে ফেলে যাওয়ার ফলে ভেঙে গিয়েছিল, তবে লুভ্র জাদুঘরের মতে এটি এখনও “প্রায় অক্ষত” এবং সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। মুকুটের আটটি স্বর্ণের ঈগলের মধ্যে একটি হারিয়ে গেছে, তবে এতে থাকা ৫৬টি পন্না এবং ১,৩৫৪টি হীরার মধ্যে মাত্র দশটি হীরা অনুপস্থিত।
লুভ্র জাদুঘর জানিয়েছে যে মুকুটটি পুনর্গঠন ছাড়া মূল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। পুনরুদ্ধার কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য জাদুঘরের সভাপতি লরেন্স দে কার্সের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ১৯শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক মুকুটের মূল নকশা ও রত্নের অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করবে।
চোরদের আক্রমণ প্রায় চার মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়। দুইজন চোর পাওয়ার টুল ব্যবহার করে জানালায় কাটা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে, নিরাপত্তা কর্মীদের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয় এবং দুইটি রত্নের কেসে থাকা রত্নগুলো কেটে নেয়। চোররা পালানোর জন্য দুজন স্কুটার প্রস্তুত রেখেছিল, যা তারা দ্রুত ব্যবহার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রতিবাদী দলটি গ্যালোরির ছাদে একটি ছোট গর্ত কেটে গ্লাসের কেসে পৌঁছানোর জন্য একটি সরু গর্ত তৈরি করেছিল, যা মুকুটের ক্ষতির প্রধান কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে। গ্যালোরির ভেতরে থাকা রত্নের কেসগুলোতে ফরাসি রাজপরিবার ও সম্রাটের সময়ের ঐতিহাসিক গহনা ছিল, যার মধ্যে ইউজেনির মালিকানাধীন হীরায় সজ্জিত টিয়ারা, নেকলেস, কানের দুল এবং ব্রোচ অন্তর্ভুক্ত।
প্রসিকিউশন অফিস চোরদের সংখ্যা চারজন পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের গ্রেফতার করেছে। তবে চুরি পরিকল্পনার মূল মস্তিষ্ক, অর্থাৎ প্রধান পরিকল্পনাকারী, এখনো ধরা পড়েনি। তদন্তকারী সংস্থা চোরদের গাড়ি ও স্কুটার থেকে প্রাপ্ত ফোরেন্সিক প্রমাণের মাধ্যমে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
চুরি করা সাতটি রত্নের মধ্যে ইউজেনির টিয়ারা, নেকলেস, কানের দুল এবং ব্রোচ এখনও অজানা অবস্থায় রয়েছে। এই গহনাগুলো লুভ্র জাদুঘরের সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ফরাসি সম্রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
আইনি দিক থেকে, চোরদের বিরুদ্ধে চুরি, সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সন্ত্রাসী হুমকি প্রয়োগের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালত এখনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং অতিরিক্ত সন্দেহভাজনদের অনুসন্ধান চলমান।
লুভ্র জাদুঘর এই ঘটনার পর পুনরায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে গ্যালেরি দ্য অ্যাপোলনের প্রবেশদ্বার ও প্রদর্শনী কেসের সুরক্ষা উন্নত করা অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে এমন ধরনের চুরি রোধে আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই চুরি ঘটনা ফরাসি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণে নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাদুঘর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে তুলেছে। লুভ্র জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মতে, মুকুটের পুনরুদ্ধার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা আবার জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হবে, যা ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটাবে।



