যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার একটি ভাষণে পিটার ম্যান্ডেলসনের যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিযুক্তি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি এপস্টেইন সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষমা চাওয়া স্টারমারকে শ্রম দলের কিছু এমপি-দের তীব্র সমালোচনার মুখে বাধ্য করেছে।
ম্যান্ডেলসনকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্টারমারের সরকারকে বিতর্কে ফেলেছিল। এই পদে নিয়োগের সময় ম্যান্ডেলসন জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে প্রশ্নের মুখে ছিলেন, তবে স্টারমার তখন এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য পেতে পারেননি বলে দাবি করেন।
জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের বন্ধুত্বের অভিযোগ প্রকাশের পর ম্যান্ডেলসন ২ ফেব্রুয়ারি শ্রম দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের পর ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের আদেশ মেট্রোপলিটন পুলিশ জারি করে। এই ঘটনাগুলো শ্রম দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দেয়।
শ্রম দলের এমপি-দের মধ্যে ম্যান্ডেলসনের রাষ্ট্রদূত নিয়োগকে অনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অনুপযুক্ত বলে গণ্য করা হয়। বেশ কয়েকজন এমপি স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন এবং তিনি ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগের সিদ্ধান্তে সরাসরি দায়ী বলে অভিযোগ করেন। এই চাপের ফলে স্টারমারকে তার সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্ব স্বীকার করতে হয়।
স্টারমার তার ভাষণে স্বীকার করেন যে ম্যান্ডেলসনের দ্বারা প্রদত্ত তথ্য ভুল ছিল এবং তিনি তা জানার আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, “ম্যান্ডেলসন আমাকে এপস্টেইনকে খুব কমই চেনেন বলে ধারণা দিয়েছিলেন, যা পরে প্রমাণিত হয়নি।” এই স্বীকারোক্তি তার ক্ষমা চাওয়ার মূল ভিত্তি গঠন করে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার উল্লেখ করেন, “আমি প্রথমে ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার ফলে ভুল নিয়োগ হয়েছে।” তিনি এ কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে তিনি এই ভুলের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ক্ষমা চেয়েছেন।
স্টারমার আরও জানান, “প্রথমে আমি ম্যান্ডেলসনের কথায় বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু পরে সত্য প্রকাশ পায়।” তিনি যুক্তি দেন যে তিনি তখন পর্যন্ত মিথ্যা তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেননি, তবে এখন তিনি দায়িত্ব স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।
ম্যান্ডেলসন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছিলেন, তবে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের তথ্য প্রকাশের পর তিনি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার এই পদত্যাগের পরেও শ্রম দলের অভ্যন্তরে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ম্যান্ডেলসন ২০০৮ সালে হাউস অব লর্ডসে নিযুক্ত হন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় ব্যবসায়িক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও এপস্টেইন সংক্রান্ত অভিযোগ তার সুনাম ক্ষয় করেছে।
শ্রম দলের অভ্যন্তরে এই ঘটনাটি পার্টির নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। কিছু বিশ্লেষক পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্টারমারের পদক্ষেপের পর্যালোচনা দাবি করছেন, অন্যদিকে কিছু সদস্য সরকারকে সমর্থন করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও স্টারমারের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তোলা হতে পারে। শ্রম দলের এমপি-দের দ্বারা সরকারকে জবাবদিহি করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়া পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনমতকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, স্টারমার পিটার ম্যান্ডেলসনের রাষ্ট্রদূত নিযুক্তি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন এবং শ্রম দলের এমপি-দের তীব্র সমালোচনার মুখে তার নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করা হবে। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টের তদারকি ও শ্রম দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা এই বিষয়ের চূড়ান্ত সমাধান নির্ধারণ করবে।



