বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। জুলাই মাস থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১,৯৯৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা একই সময়ের পূর্ববর্তী অর্থবছর তুলনায় ২১.৭ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা আশাবাদী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ ১,৬৩৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ছিল। ফলে, বর্তমান বছরের মোট প্রবাহে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের অতিরিক্ত আয় হয়েছে, যা দেশের প্রবাসী সম্প্রদায়ের আর্থিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ার ফলাফল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফেডারেল ডেটা থেকে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম চার দিনে (১ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি) রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৫০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেকর্ড হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি দুই দিনে একত্রে ১৮ কোটি ডলার প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়সীমায় ২০২৪ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৪২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ছিল, ফলে এই বছর প্রথম চার দিনে প্রবাহে প্রায় ১৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, প্রবাসী কর্মীরা এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈধ ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন, যা লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলেছে। সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনা পরিকল্পনা, যেমন রেমিট্যান্সে কম ফি এবং দ্রুত ট্রান্সফার সেবা, এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এই প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেশের রিজার্ভে প্রায় ১,৯৯৩ কোটি ডলারের অতিরিক্ত মুদ্রা যোগ করবে, যা মুদ্রা সাপ্লাইকে সমর্থন এবং রপ্তানি-আমদানি ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের বৃদ্ধি ভোক্তা ব্যয়ের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও সেবা খাতে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে, ব্যাংকিং সেক্টরের লিকুইডিটি উন্নত হওয়ায় ঋণদানের শর্তও সহজ হতে পারে।
অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকরা রেমিট্যান্সের এই উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে প্রাসঙ্গিক নীতি সমর্থন এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে, ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রসার এবং রেমিট্যান্সে কর ছাড়ের মতো প্রণোদনা চালু রাখা হলে, ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ২১.৭ শতাংশের উর্ধ্বগতি এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম চার দিনে ১৯.৮ শতাংশের বৃদ্ধি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এই প্রবণতা বজায় রাখতে সরকার, ব্যাংক এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরে ছড়িয়ে পড়ে।



