মোজাম্বিকের রাজধানী মাপুতোতে বুধবার বাংলাদেশ সরকারের উচ্চকমিশনার শাহ আহমেদ শফি স্থানীয় মুদ্রায় দশ লাখ টাকার সমমানের চেক হস্তান্তর করে বন্যা‑প্রভাবিত জনগণের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানটি মোজাম্বিকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুয়েলা দোস সান্তোস লুকাসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
মোজাম্বিকের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে এক মাসব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিশাল বন্যা সৃষ্টি হয়, যা ফসল, জীবিকা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় দুই লক্ষ মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে এবং বহু অঞ্চল মানবিক সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ত্বরিত সহায়তার আবেদন করা হয়েছিল।
বৈঠকে শফি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার পক্ষ থেকে মোজাম্বিকের জনগণ ও সরকারকে সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধারের কামনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আর্থিক সহায়তা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সমর্থনের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে। শফি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার মোজাম্বিকের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।”
চেক হস্তান্তরের সময় মোজাম্বিকের কনসাল জেনারেল ইউসুফ মিরালি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিরালি উল্লেখ করেন, এই সহায়তা ত্রাণ কাজের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, মোজাম্বিক সরকার এই তহবিলকে কৃষি পুনর্গঠন, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করবে।
এই সহায়তা প্রদান আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তহবিলের স্থানান্তর দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কার্যকরীতা তুলে ধরেছে। একই সময়ে, সাদার (SADC) এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোও মোজাম্বিকের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরণের দ্বিপাক্ষিক সহায়তা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা‑প্রবণ দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবিক সহায়তার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং বাংলাদেশ সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার অভিজ্ঞতা ও সম্পদ শেয়ার করতে ইচ্ছুক।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশ দূতাবাস মোজাম্বিকের ত্রাণ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তহবিলের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করবে। উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশন এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য, কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদী।



