17 C
Dhaka
Friday, February 6, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচল ও গতি-প্রকৃতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের নির্দেশ ইসির

নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলাচল ও গতি-প্রকৃতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের নির্দেশ ইসির

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা বাসিন্দাদের ভোটের পূর্বে ও ভোটের দিন ক্যাম্পের বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশটি কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে প্রযোজ্য এবং তা ভোটের দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ইসির জানানো তথ্য অনুযায়ী উখিয়া ও টেকনাফের শিবিরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার স্পষ্ট তথ্য রয়েছে। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে কমিশন নিশ্চিত করতে চায় যে কোনো রাজনৈতিক দল রোহিঙ্গা বাসিন্দাদেরকে ভোটকেন্দ্রের কর্মী, অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদানকারী বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দমন করতে সহায়তা না করে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে সংসদ সদস্য প্রার্থীরা রোহিঙ্গাদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপের মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো এবং আরএসএ, আরএসও বা আরাকান আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে সীমান্তে আতঙ্ক সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় শিবিরের বাইরে যাত্রা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সিএনজি, অটো রিকশা, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান্ত্রিক গতি-প্রকৃতি বন্ধ রাখা হবে। যানবাহন চলাচল না থাকায় শিবিরের চারপাশের বড় বাজারগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় জনসমাগম এড়ানো যায়।

এছাড়া, শিবিরে কাজ করা এনজিও কর্মীদের প্রবেশ সীমিত করা হবে; শুধুমাত্র জরুরি কাজের জন্য অনুমোদিত কর্মীই প্রবেশের অনুমতি পাবে। ক্যাম্পের মধ্যে কোনো সভা-সমাবেশ, সমাবেশমূলক আলোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও নির্বাচনের সময় স্থগিত থাকবে।

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রার্থনা সময়ে মসজিদে ঘোষণার মাধ্যমে বাসিন্দাদেরকে নির্দেশনা জানানো হবে।

অবৈধ অস্ত্রের তাড়া ও বাজেয়াপ্তি করার জন্য বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে শিবিরের ভিতরে কোনো অস্ত্রের সঞ্চয় ধরা না পড়ে।

নিয়মের কার্যকরী পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যাম্পে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) স্থাপন করা হবে। আইন লঙ্ঘনকারীকে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

বিএনপি ও জিএস দলের কিছু নেতা ক্যাম্পে চলমান মানবিক সহায়তার ওপর প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার ও সেবার প্রবেশাধিকার বজায় রাখা দরকার।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন জাল ভোট এবং সশস্ত্র হুমকি কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও মানবিক সহায়তার প্রবাহে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

ইসি নিশ্চিত করেছে যে ভোটের পর শিবিরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং কোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপগুলোকে অস্থায়ী বলে গণ্য করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments