জাতীয় নির্বাচনের ছয় দিন আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার সময় নির্বাচন কমিশন (নির্বাচন কমিশন) তথ্যভ্রান্তিকে সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিশন বলেছে, পরিস্থিতি ‘সম্মানজনকভাবে’ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সিনিয়র সেক্রেটারি অখতার আহমেদ আজ সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের কমিশন সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানান, ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১১৬টি এলাকায় ভোটার তালিকা ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৮৪টি এলাকায় ভোটার তালিকা ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে; দেরি মূলত আদালতের আদেশের ফলে কিছু প্রার্থী পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তালিকা পুনঃমুদ্রণ ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা থেকে।
কমিশন এছাড়াও জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারাভিযান ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ টায় শেষ হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণের জন্য ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী ১,০৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস (BNCC) এর সদস্যরাও নির্বাচনী কাজের সহায়তা প্রদান করবে।
তথ্যভ্রান্তি মোকাবিলায় অখতার আহমেদ মেটা (মেটা) সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেটের গতি কমানো বা গোপনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে মেটাকে অনুপযুক্ত মন্তব্য, আপত্তিকর বিষয়বস্তু এবং মিথ্যা তথ্য সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ করা হয়েছে। এভাবে ভোটারদের সঠিক তথ্য সরবরাহে সহায়তা করা হবে।
ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে, এখন পর্যন্ত ১,০৭,১৬৮টি ভোটপত্র বিদেশ থেকে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছেছে। দেশের ভিতরে ও বিদেশে মোট ৩,৭৯,৯২৪টি ডাক ভোটপত্র বাংলাদেশ পোস্ট অফিসে জমা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ৪,৪৪,৯৫২টি ভোটপত্র মেইলবক্সে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২,১১,১২২টি ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। ভোটপত্র গ্রহণের শেষ সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত।
অতিরিক্তভাবে, ৬,০৯১জন আইনগত কারাবাসে থাকা বন্দীও ডাক ভোটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। কমিশন এই নিবন্ধনকে স্বীকৃতি দিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে তথ্যভ্রান্তি নিয়ন্ত্রণে মেটা সহ অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে। এই পদক্ষেপগুলো ভোটারদের সঠিক তথ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে, নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি আস্থা জোরদার করার লক্ষ্য রাখে।



